বোতল এবং গ্লাসে ঠান্ডা পানীয় রাখলে বাহিরের পৃষ্ঠে পানি জমে কেন

গরম কাল, বাহিরে কোন কাজে অথবা ঘুরতে গেছেন কিছুক্ষন পর গরমে অস্থির হয়ে গেলেন এবং ভাবলেন এবার ঠান্ডা পানীয় বা সফট ড্রিংকস না খেলেই না।

এরপর বাসায় আসলেন ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বা ড্রিংকস বের করে গ্লাসে ঢাললেন কিছুক্ষন পর দেখলেন ড্রিংকসের বোতল এবং গ্লাস উভয়ের বাহিরে বিন্দু বিন্দু পানি জমছে।

সেদিকে হয়ত আমরা সবাই খেয়াল করি কিন্তু বেশিরভাগই জানিনা এই পানিগুল কথায় থেকে আসে বা এই পানি জমার কারন কি। এগুলো কি কোন যাদু? না এটা কোন যাদু নয় এটি একটি সহজ বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ঘনীভবন বলা হয়।

পানি জমার কারন

যারা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তারা হয়ত সবাই জানেন, তবে যারা জানেননা তারা এই লিখা থেকে যেনে নিতে পারেন।

বোতল বা গ্লাসে পানি জমার কারন টি অত্যান্ত সহজ এবং সাধারন।

আমরা প্রায় সবাই জানি বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকে (জলীয় বাষ্প পানির গ্যাসিয় রুপ) আর এই বাষ্প সবসময় আমাদের চারিদিক থেকে ঘিরে রাখ, যতক্ষন না বাতাসের তাপমাত্রা ০(শুন্য) ডিগ্রীর বেশি থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত সেটি বাষ্প আকারে বাতাসে মিশে থাকবে কিন্তু যখন তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী বা তার কম হবে তখন বাষ্পগুলো পানিতে পরিনত হবে।

একইভাবে আপনি যখন বোতলে বা গ্লাসে ঠান্ডা পানীয় রাখেন তখন তার পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রীর নিচে নেমে যায় এবং পৃষ্ঠতলের সংস্পর্শে থাকা বাষ্পসমুহ তরলে পরিনত হয়। যার ফল স্বরুপ আমরা বোতলের গায়ে বিন্দু বিন্দু পানির ফোটা দেখতে পাই।

আবার শিতকালে বাতাসের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে, যার ফলে জলীয় বাষ্পসমুহ ধিরে ধিরে পানিতে পরিনত হয় এবং একসময় শিশির আকারে পরে।

গরম বাতাসে ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে বেশি জলীয় বাষ্প থাকে, সুতরাং গরমকাল এবং শীতকালে এই পানি জমার পরিমান কম-বেশি হতে পারে

Leave a Reply