মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও তাদের প্রতি কর্তব্য


এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমান এর কর্তব্য

হযরত উমর (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসূল (সঃ) ঘোষণা করেছেন- এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সে তাকে অত্যাচার করবে না এবং তাকে শত্রুর নিকট সমর্পনও করবে না। আর যে ব্যক্তি তার কোন মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। (বুখারি ,হাদিস নং ২৪৪২; 

সারসংক্ষেপঃ বুখারি শরীফের এ হাদিসে মহানবি (সঃ) মুসলমানগনের পরস্পরের সম্পর্ক এবং তাদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন ।   

মুসলমান- মুসলমান ভাই- ভাই এবং এক মুসলমানের অন্য মুসলমানের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে । কোন মুসলমান অন্য মুসলমানদের উপর অত্যাচার করতে পারে না।  যত বড় অপরাধই করুক না কেন তাকে শত্রুর হাতে তুলে দিতে পারবে না। 

অন্য এক হাদিসে মহানবি (সঃ) বলেছেন,
মুসলমান সেই ব্যক্তি যার মুখের কটুক্তি ও হাতের অনিসঠাকারিতা থেকে অন্য মুসলমান সুরক্ষিত থাকে। আর মুমিন সে ব্যক্তি, যার নিকট তাদের জান ও মাল সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিরাপদ। (তিরমিযি ,হাদিস নং ২৬২৭)

মহানবি (সঃ) আরো বলেছেন ,
আল্লাহ পাক ততক্ষন পর্যন্ত তার বান্দার সাহাজ্য করতে থাকেন, যতক্ষন সে তার কোন মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে ।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৯৯/৩৮)

তাই আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে আমাদের অন্য মুসলমান ভাইকে সাহায্য করতে হবে ।এক মুসলমান অন্য মুসলমানের সাহায্যে এগিয়ে না আসার কারনে আজ বিশ্বে মুসলমানগন অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হচ্ছে।  তাই সকল মুসলমানদের উচিত সব স্বার্থ ও ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে অন্য মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসা।

উপরের হাদিস থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে,
- এক মুসলমানগন পরস্পর ভাই-ভাই ।
- এক মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের উপর অত্যাচার করতে পারবে না।
- তাকে শত্রুর হাতে তুলে দিতে পারবে না।
- মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য।
- মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে ।
- মুসলমান ভাই কোন অন্যায় করলে তা সংশোধন ও ক্ষমা করে দেওয়া উচিত ।
- মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর এমন কোন কাজ করা যাবে না ।

আল্লাহ আমাদের সবাই কে এই হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহন করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের তৌফিক দান করুন ।(আমিন)                     

Post a Comment

0 Comments