ইসলামে প্রতিবেশির অধিকার ও কর্তব্য



আমরা সমাজে বসবাস করি। সমাজে বসবাসকারি হিসেবে আমাদের আসেপাশে যারা বসবাস করে সবাই আমাদের প্রতিবেশি। পাশাপাশি স্থায়ী ও অস্থায়ী বসবাসরত সবাই আমাদের প্রতিবেশি৷

মহানবি( সঃ) কে প্রতিবেশি সম্পর্কে  জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন,
সামনে পিছনে ডানে ও বাই ৪০ বাড়ি পর্যন্ত সবাই প্রতিবেশী। (বায়হাকী)

প্রতিবেশীর অধিকার ও কর্তব্য

মানুষের কাছের মানুষ হল প্রতিবেশি। আমাদের সুখ দুঃখে তারাই প্রথম এগিয়ে আসে। তাই আল্লাহ তাদের অধিকাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আমাকে জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে এত বেশি তাগিদ দিলেন যে, মনে হল প্রতিবেশীকে আমার উত্তরাধিকারী করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

এমন কোন কাজ করা যাবে না যাতে প্রতিবেশিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। প্রতিবেশিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

 আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
 আর মাতা পিতার সাথে সদাচরণ করো এবং সদসদাচরণ করো আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাআত্মীয় প্রতিবেশী ও পার্শ্ববর্তী সাথে প্রতিবেশীর সাথে। (সূরা নিসা, আয়াতঃ৩৬)

প্রতিবেশিদের সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না।

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি কারো এক বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে কিয়ামতের দিন তার গলায় সাত স্তর জমি বেড়ি হিসেবে বেধে দেওয়া হবে। (সহি বুখারী ও মুসলিম)

প্রতিবেশিদের বিপদে আপদে সাধ্য মত সাহায্য করতে হবে।

 মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় আর তার পাশেই তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।

প্রতিবেশিদের দোষ ত্রুটি গোপন রাখতে হবে এবং তাদের গিবত করা যাবে না। প্রতিবেশিদের সাথে ঝগড়া করা যাবে না।

 রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,
 কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ঝগড়াটে দুই প্রতিবেশীর মুকাদ্দামা পেশ করা হবে।

নিত্য ব্যবহার্য জিনিস প্রতিবেশিদের দিতে হবে।

 আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
 আর ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিত্যব্যবহার্য বস্তুর দেয় না। (সূরা মাউন আয়াত ৭)


Post a Comment

0 Comments