সাওমের ধর্মীয় গুরুত্ব ও শিক্ষা পর্ব-৩



#১ সংযম এবং আত্মশক্তি অর্জনঃ একজন মানুষ জীবনের সার্বিক সফলতা ও বিভিন্ন মানবীয় গুণাবলী বিকাশ এর জন্য সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ একান্ত প্রয়োজন। ব্যক্তি সংযমের গুরুত্ব অপরিসীম। সে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না যার মধ্যে সংযম অবলম্বন এর শক্তি নেই ।তার মধ্যে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হতে পারে না। ব্যক্তিত্ব যথার্থ বিকাশের জন্য নিজের প্রবৃত্তি ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করা অপরিহার্য। নিজের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে মানুষের মধ্যে সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণাবলী সৃষ্টি করতে হয় আর সিয়াম পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্ম শক্তি অর্জন হয়। রমজান আত্ম সংযমের মাস সিয়াম সাধনায় ত্যাগ ও তিতিক্ষার পরীক্ষা হয,  সংযমের পরীক্ষা হয় আর সে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ মমিন দেহ ও মনের পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিজেকে পরিশোধন করার সাধনায় ব্রতী হয।

 ইমাম গাযযালী বলেন,  দৈহিক কৃচ্ছ্রতা এবং সংযমের সাথে যখন অন্তরের সাধনা যুক্ত হয় তখনই আদর্শ সংগম চেতনা শ্রেষ্ঠতায়  প্রতিফলিত হয় রমজানের সিয়াম সাধনায।

#২ সবর ও ধৈর্যশীলতা অর্জনঃ শবর ধৈর্যশীলতা মানব জীবনের অপরিহার্য গুন। এই গুণ থাকলে মানুষ যে কোন বাধা প্রতিবন্ধকতা ও বিপদ আপদ এর মোকাবেলায় কর্তব্য পালন করে যেতে পারে। সত্য কল্যান ও ন্যায়ের পথে চলা এবং টিকে থাকার জন্য সবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে হলে বাস্তব জীবন সাধনা জয়ী হতে হলে ও সবর ও ধৈর্যের প্রয়োজন। তাছাড়া আল্লাহর দ্বীনকে নিজের জীবনে ও সমাজে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অবিরাম চেষ্টা সাধনা ও ধৈর্যের সাথে সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। তাই জীবন ও সত্যের সংগ্রামে প্রতিমুহূর্তে প্রয়োজন হয়। সবরের গুণাবলী সৃষ্টির কার্যকর ক্ষমতা ও প্রশিক্ষণ পাওয়া যায় রমজানের সিয়াম সাধনায়।এজন্য,

 মহানবী (সঃ) রমজান সিয়াম সাধনার মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মহানবী (সঃ) এ মাস ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে জান্নাতের সুখ। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নং ১৯৬৫)

#৩ ধর্মীয় নৈতিক গুনাবলিঃ রমজানের সিয়াম পালন একাধারে একটি অনন্য ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশীলন। আর  সিয়াম বলতে শুধু দূর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় ও দৈহিক সম্ভগ থেকে বিরত থাকা কে বোঝায় না। বোঝায় সব ধরনের অন্যায় অশুভ চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকা।


#৪ নাজাত ও জান্নাত লাভের মাধ্যমঃ বান্দা একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট ও তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পানাহার, ইন্দ্রিয় তৃপ্তি ও সর্বপ্রকার পাপাচার হতে বিরত থাকে। তাই করুনাময় মহান আল্লাহ তাকে বেহেস্ত দান করবেন। এই মর্মে,

 মহানবী (সঃ) এটা এমন একটি মাস যার প্রথমভাগে আল্লাহর রহমত,মধ্যভাগে মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ রয়েছে।( মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৬৫)

 মহানবী (সঃ) আরো বলেছেন, জান্নাতের আটটি প্রবেশদ্বার আছে তার মধ্যে একটি নাম রাইয়ান' সাওম পালনকারী ছাড়া কেউ সেদার দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি হাদিস নং ৩২৫৭)

বস্তুত সিয়াম সাধনার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত।

Post a Comment

0 Comments