সাওমের ধর্মীয় গুরুত্ব ও শিক্ষা পর্ব-২



রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপঃ রোজা মানুষকে ষড়রিপুর আক্রমণ থেকে ঢালস্বরূপ বাঁচিয়ে রাখে। কাম, ক্রোধ, লোভ- লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ বিপথগামী হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি হয।রোজা মানুষের এ সকল কুপ্রবৃত্তি দমন করে। এ কারণেই,

 মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (আস সাওমু জুন্নাতুন) রোজা ঢালস্বরূপ।(সহিহ বুখারি,তিরমিজি)

সিয়াম সাধনা মানুষকে পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদা, কামনা, বাসনা এবং শয়তানের প্ররোচনামূলক সকল আক্রমন থেকে রক্ষা করে।

#২ রোজা মুক্তির উপায়ঃ কিয়ামতের কঠিন মুহূর্তে রোজা বান্দার মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।
এ মর্মে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোজাসমূহ সুপারিশ করে বলবে হে প্রভু, আমি এ ব্যক্তিকে দিনে পানাহার ও অন্যান্য কামনা বাসনা হতে ফিরিয়ে রেখেছি, আপনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন, আল্লাহ সুপারিশ গ্রহণ করবেন।( বাইহাকি)

#৩ রোজা গুনাহ মার্জনাকারিঃ করুনাময় মহান প্রভু রোজাদার বান্দার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ও অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।
 মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যারা রমজান মাসের প্রথম ও শেষ নাগাদ রোজা পালন করেছে তারা সদ্যজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যাবে।

#৪ আল্লাহর প্রেমের নিদর্শনঃ বান্দা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তারি রেজা মন্দি পাওয়ার প্রবল বাসনা নিয়ে সিয়াম পালন করে। রোজার মধ্যে কোনরূপ বাহ্যিকতা বা লৌকিকতা নেই। রোজা একমাত্র আল্লাহর প্রেম ও ভালবাসার নিদর্শন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সিয়াম পালনকারীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।
হাদিসে আছে রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয।

#৫ রোজা চরিত্র গঠনে সাহাজ্য করেঃ রোজা মানুষের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। রোজা রাখলে মানবমনে খোদা ভীতি জাগ্রত হয়। সংযম আত্মশুদ্ধি তে উদ্বুদ্ধ হয় এবং মানুষকে কস্ট সাধনায় অভ্যস্ত করে। এটা একটি নীরব ইবাদাত। সিয়ামের ধ্বংস করে দিয়ে কামনা-বাসনার শিক্ষা নির্বাপিত করে লালসা দগ্ধ করে দিয়ে মুমিনের আত্মাকে নিষ্ঠুর পবিত্র শিশুর মতো নিষ্পাপ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

#৬ আরশের ছায়ায় স্থান লাভ- কঠিন ভয়াবহ হাশরের ময়দানে যে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না যেদিন সবাই শিয় কৃতকর্মের হিসেব নেওয়ার জন্য উদভ্রান্ত হয়ে ছুটাছুটি করবে সেই বিভীষিকাময় দিনে রোযাদারগণ আল্লাহর আরশের নিচে স্থান লাভ করবে।

#৭ আল্লাহর সাথে যোগসূত্র সৃষ্টিতেঃ আল্লাহ মানুষকে তার খিলাফতের দায়িত্ব দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই বান্দার সাথে মহান স্রষ্টার একটা যোগসূত্র থাকা বাঞ্ছনীয়। এ যোগ সূত্র তাহলে যেমন হৃদয়ের পরিছন্নতা এবং পবিত্রতা দরকার তেমনি মানসিক একাগ্রতা আত্মনিবেদন এবং আধ্যাত্মিক বিরত একান্ত প্রয়োজন। সিয়াম পালনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যসমূহ অর্জিত হয় এবং যাবতীয় দিক থেকে পুত পবিত্র হয়। আল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয় এভাবে সিয়াম মানুষকে নিয়ে যায় আল্লাহর কাছাকাছি।

Post a Comment

0 Comments