যেভাবে রূট ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের স্পিড বাড়াবেন


যদি আপনি আপনার স্লো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন
নিয়ে চিন্তিত তাহলে আপনি সঠিক যায়গায় এসেছেন।আপনি রুট ছাড়াই আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর স্পিড বাড়াতে পারেন।চলুন নিচের পোস্ট থেকে জেনে নেওয়া যাক যেভাবে রুট ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর স্পিড বাড়াবেন। স্লো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সুপার ফাস্ট করবেন  



আজকে কোটি কোটি মানুষ Android ব্যবহার করছে। কিন্তু কিছু ব্যবহারকারী তাদের স্মার্টফোন স্লো হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত কারন, বর্তমান সময়ে তাদের মোবাইল অনেক স্লো কাজ করছে।তাই আমি আজকে এই সমস্যা সমাধান নিয়ে এসেছি। আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল স্লো হয়ে যাওয়ার অনেক কারন রয়েছে। যেমন,  মোবাইলের মেমরি, র‍্যাম কম, অন্য একটি সমস্যা রয়েছে যেমন ভাইরাস, এবং আরো অনেক কারন রয়েছে। আজকে আমি এই পোস্টে যে পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব তার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর গতি বাড়াতে পারবেন। 

যেভাবে রুট ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের গতি বাড়াবেন    



#১ ম্যানেজ ইন্টার্নাল স্টোরেজ

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর ইন্টার্নাল স্টোরেজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারন আপনি যে অ্যাপগুলো আপনার মোবাইলে ব্যবহার করছেন তার অ্যাপ স্টোর হিসেবে ইন্টার্নাল স্টোরেজ ব্যবহৃত হয়। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে মোবাইল কেনার আগে বেশি ধারনক্ষমতা সম্পুর্ন ইন্টার্নাল স্টোরেজ দেখে কিনতে হবে এবং দ্বিতীয় বিষয় হল অবশ্যই পারফেক্ট ভাবে ইন্টার্নাল স্টোরেজ ম্যানেজ করতে হবে।

#২ Remove Bloatware

আপনার মোবাইল এর র‍্যাম যদি ২ জিবি হয় তাহলে Bloatware নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু যদি র‍্যাম ২ জিবে এর কম হয় তাহলে bloatware remove করতে হবে।

#৩ অ্যাপ এবং সিস্টেম cache ক্লিন করতে হবে।


আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস "cache" ফাইল ইন্টার্নাল স্টোরেজে জমা করে রাখে। যদি এর পরিমান বেশি হয়ে যায় তাহলে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স নস্ট হয়ে যায়। তাই আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর পারফর্মেন্স বাড়ানোর জন্য অ্যাপ এবং সিস্টেম caches ক্লিন করতে হবে।

#৪ শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ইন্সটল করতে হবে।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে অ্যাপ ইন্সটল করা অনেক সহজ।  কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে সব অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো অনেক মেমরি,র‍্যাম নস্ট করে এবং ব্যাটারির চার্জ নস্ট করে কিন্তু আপনার এই অ্যাপগুলো প্রয়োজন নেই। তো নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ব্যবহার করছেন। যে অ্যাপগুলি আপনি ব্যবহার করেন না সেগুলো আনইন্সটল করে দিন।

#৫ অপ্রয়োজনীয় Widgets ডিলিট করে দিন।

অনেকেই আছেন যারা তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে widgets ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। অতিরিক্ত widgets ব্যবহার করলে মোবাইল স্লো হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত widgets ব্যবহার না করাই ভাল।

#৬ Live Wallpapers ব্যবহার না করাই ভাল

আমরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আকর্ষণীয় লুক দেওয়ার জন্য live wallpapers ব্যবহার করি। কিন্তু এই লাইভ ওয়ালপেপার আপনার মোবাইলের র‍্যাম নস্ট করে এবং ব্যাটারির চার্জ নস্ট করে।

#৭ নিয়মিত যে অ্যাপগুলি ব্যবহার করেন সেগুলোর লাইট ভার্শন ব্যবহার করবেন

আপনি প্লে স্টোরে অনেক অ্যাপ পাবেন যেগুলো Low-end ডিভাইসগুলোর জন্য ডিজাইন করে তৈরি করা হয়েছে। এই লাইট ভার্শন অ্যাপগুলির স্টোরেজ কম লাগে এবং দ্রুত লোডিং হয় ফলে আপনার মোবাইল থাকে ফাস্ট।

#৮ Sd-card এর সমস্যার সমাধান করতে হবে

আপনি যদি কম গ্রেড এর ম্যামোরি কার্ড ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মোবাইল স্লো কাজ করবে। অবশ্যই গ্রেড-১০ এর নিচের ম্যামোরি ব্যবহার করবেন। সাথে-সাথে এই বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার sd-card এ কোন ভাইরাস আছে কি না। আমরা সাধারনত এই বিষয়টিতে গুরুত্ব  দেই না কিন্তু পরবর্তীতে এটি আমাদের সম্পুর্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে।

#৯ সিস্টেম আপডেট দিতে হবে

প্রতিবার সিস্টেম আপডেট এর সময় নতুন কিছু নিয়ে আসে এবং আগের "bugs"গুলো ঠিক করে। তাই আপনি যদি পুরনো ভার্শন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই আপডেট দিবেন।

#১০ Auto sync বন্ধ করে দিবেন

আপনি যদি একাধিক জিমেইল এবং অন্যান্য একাউন্ট ব্যবহার করেন তাহলে auto sync বন্ধ করে দিবেন।

#১১ ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অ্যাপ্সগুলি রিমুভ করে দিবেন।

#১২ স্পিড বুস্টার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন

গুগল প্লে স্টোরে আপনি অনেক অ্যাপ পাবেন যেগুলো আপনার ফোনের স্পিড বাড়াতে সাহাজ্য করবে।

#১৩ Factory reset

 যদি আপনি উপরের পদ্ধতিগুলো ট্রাই করেন এবং কাজ না হয় তাহলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট দিবেন। ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে আপনার ফোনের cache, junk, এবং ইন্টার্নাল স্টোরেজ ক্লিয়ার হয়ে যায়।

#১৪ অতিরিক্ত factory reset দিবেন না

যদিও এক্ষেত্রে factory reset 95% কাজ করে তার পরেও অতিরিক্ত রিসেট দেওয়া ভাল না। কারন রিসেট দেওয়ার পরে আপনার ফোনের নতুন করে cache rebuild করতে হয়। ফলে আপনার মোবাইল স্লো হয় যায়।

#১৫ ৬ মাসে একবার factory reset দিবেন

অতিরিক্ত রিসেট দেওয়ার ফলে যে সমস্যা হয় তার জন্য ৬ মাসে একবার রিসেট দেওয়াই ভাল।

#১৬ soft reboot

ব্যবহারকারীরা সাধারনত ৭-৮ দিন পর তাদের ফোন রিবুট দিয়ে থাকেন ফলে তাদের মোবাইল স্লো হয়ে যায়। প্রতিদিন ফোন রিবুট দেওয়া উচিত।

Post a Comment

0 Comments