যেভাবে নতুন ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাবেন

আপনার ব্লগ থেকে আয় করার জন্য গুগল অ্যাডসেন্স হল সেরা অ্যাড নেটওয়ার্ক। এটি অন্যান্য CPC অ্যাড নেটওয়ার্ক এর চাইতে ৯০% ভাল। গুগল অ্যাডসেন্স আপনাকে অনেক বেশি cpc অফার করে এবং আপনি অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্ক এর চাইতে অনেক গুন বেশি ইনকাম করতে পারবেন। মোট কথা বলতে গেলে আপনার ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম করার জন্য গুগল অ্যাডসেন্স এর চাইতে সেরা আর কিছু নেই।  যারা ব্লগিং করে ইনকাম করেন তার গুগল অ্যাডসেন্স কে সোনার হরিন বলে থাকেন।


প্রত্যেক নতুন ব্লগারদের স্বপ্ন যে তারা এই অ্যাড নেটওয়ার্ক দিয়ে ইনকাম করবেন। কিন্তু যারা নতুন তারা তাদের ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স পেতে সক্ষম হয় না কারন গুগলের কিছু কঠিন শর্ত এবং নিয়ম যেগুলো তারা পূরন করতে ব্যর্থ হন। এজন্যই আমরা নিজেদের ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স পাইনা। কিন্তু আমরা জানি কোন কিছুই অসম্ভব নয়।

ভাল খবর হল; নতুন ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়া এখন অনেক সহজ; যদি আপনি যদি কিছু প্রথমিক শর্ত মেনে ব্লগিং শুরু করেন। যখন আমি প্রথম বার চেস্টা করেছি তখন ব্যর্থ হয়ে। কিন্তু যখন আমি এই শর্তগুলো পূরন করেছি আমি গুগল অ্যাডসেন্স পেয়েছি। এই বিষয়ের উপর চিন্তা করে আমি নিয়ম এবং শর্তগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।



প্রথমে আপনার ব্লগ সাইট গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য প্রস্তুত করুনঃ

যে সাইট গুগল অ্যাডসেন্স এর সব রুলস মেনে তৈরি করা হয় অ্যাডসেন্স মডারেটররা শুধু তাদের আবেদন গ্রহন করে থাকেন। এজন্য প্রথমে আপনার সাইট প্রস্তুত করতে হবে। তাই প্রথমে দেখুন আপনার সাইট এই নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না। গুগল অ্যাডসেন্স টিম কর্তৃক ঘোষিত কিছু প্রথমিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যেগুলো মানতে হবে; সাথে সাথে কিছু হ্যাক এবং কৌশল রয়েছে যা কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ; এখানেঅফিশিয়াল পেইজে গুগল বলেছে যে,
বাংলাদেশ, চায়না, ইন্ডিয়া দেশে পাবলিশারদের অ্যাডসেন্স পেতে হলে ব্লগের বয়স কমপক্ষে ৬ মাস হতে হবে। তার পরেও অনেক বাংলাদেশি এবং ইন্ডিয়ার ব্লগার রয়েছেন যারা মাত্র এক মাস পূরোনো ডোমেইন দিয়েই গুগল অ্যাডসেন্স পেয়েছেন। এখানে শুধু একটি বিষয় কাজ করে আর সেটি হল কোয়ালিটি"Quality"
 তো চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন কারনগুলো যা আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স পেতে সাহায্য করবে।

উচ্চ মানের বিষয়বস্তু নিয়ে লিখুনঃ
একটি লেখার প্রবাদ আছে,"Content is King" যেটি আপনাকে এই প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সাহায্য করবে। উচ্চ মানের কন্টেন্ট দ্বারা একটি উচ্চ মানের ব্লগ সনাক্ত করা হয়ে থাকে। উচ্চ মানের কন্টেন্ট মানে হল ইউনিক"unique" সুন্দর ভাবে সাজানে এবং সকল বিষয়বস্তু পরিস্কার ভাবে উপস্থাপন করা।  কিছু ব্লাক হ্যাট "Black Hat" ওয়েবমাস্টার বলেন যে, কপি পেস্ট করা ১০০-২০০ ওয়ার্ড এর মদ্ধ্যে একটি পোস্ট যতেস্ট। কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবে বলে দিতে চাই তার অ্যাডসেন্সের জন্য জার্নি এখানেই শেষ। ১০০-২০০ ওয়ার্ডের মধ্যে একটি পোস্ট যতেষ্ট নয়। আমি মনে করি, ১০০-২০০ ওয়ার্ডের মদ্ধ্যে একটি টপিকের বিস্তারিত আলোচনা করা যায় না। কপি পেস্ট কি যতেস্ট? কপি পেস্ট করে ব্লগিং করলে কেউ কি আপনাকে ব্লগার মনে করবে?
একটা কথা মনে রাখবেন কপি পেস্ট করলে গুগল কোন দিনও আপনার আবেদন গ্রহন করবে না। একটি ভাল ব্লগ পোস্ট অবশ্যই ১০০% ইউনিক এবং ৫০০-৬০০ ওয়ার্ড এর মদ্ধ্যে হতে হবে। তাই পোস্ট লেখার সময় অবশ্যই এই লিমিটের মধ্যে রাখার চেস্টা করবেন। এবং অবিশ্যই টপিকের উপর বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি পোস্ট লিখুন এবং মেটা ট্যাগ"meta tag" এর মাধ্যমে অপ্টিমাইজড করুনঃ
আপনার ইউনিক ব্লগ পোস্ট মেটা টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন এর মাধ্যমে অপ্টিমাইজড করুন যাতে গুগল ক্রাউলার বোটস বুঝতে পারে আপনার কন্টেন্ট কোন বিষয়ের উপর লেখা হয়েছে। এটা সম্ভব নয় যে গুগল অ্যাডসেন্স প্রতিটি ওয়েবসাইট চেক করে দেখবেন। ফলে তারা এই কাজটি করার জন্য ক্রাউলার বোটস"crawler bots" এর সাহায্য নেয়। এই বোটস আপনার ব্লগের প্রতিটি পেজ চেক করে দেখবে। তাই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি সঠিক তথ্য সহকারে এই ট্যাগ ব্যবহার করছেন।

মনে রাখবেন আপনার মেটা টাইটেল যেন ৬৯ ক্যারেক্টর এবং ডেসক্রিপশন ১৫৬ ক্যারেক্টর (স্পেস সহকারে) এর বেশি না হয়।

ব্লগে কি যতেস্ট পরিমান কন্টেন্ট এবং পোস্ট রয়েছেঃ
অবশ্যই আপনার ব্লগের প্রত্যেকটা পেজ এবং ক্যাটাগরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পোস্ট এবং কন্টেন্ট থাকা দরকার। অবশ্যই ব্লগে ১৫-৩০ টি পোস্ট রাখবেন। এটা কোন অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নয় তবে আমি মনে করি এই পরিমান পোস্ট থাকা দরকার। প্রত্যেকটি পেজ,ট্যাগ এবং ক্যাটাগরিতে কমপক্ষে ৩-৪ টা পোস্ট রাখবেন। কোন পেজ যেন খালি না থাকে। গুগল অ্যাডসেন্স বলেছে যে তাদের অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমান কন্টেন্ট দরকার। তাই আমাদের প্রত্যেকটি পেজ এবং ক্যাটাগরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কন্টেন্ট রাখতে হবে এবং প্রতিটি পোস্ট ৫০০-৬০০ ওয়ার্ড এর মদ্ধ্যে লিখবেন। যত বড় করে লিখবে সম্ভাবনা তত বাড়বে।

ব্লগের ডোমেইন এর বয়স ছয় মাস হতে হবেঃঃ 
আমি এই কথা আগেই বলেছি যে, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, চায়না দেশগুলোতে গুগল অ্যাডসেন্স এ আবেদন করার জন্য ডোমেইন এর বয়স ছয় মাস হতে হবে। গুগল এর অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট অনুযায়ীঃ


In some locations, including China and India, we require publishers to have owned their sites for 6 months. We’ve taken this step to ensure the quality of our advertising network and protect the interests of our advertisers and existing publishers.

যদিও কিছু ব্লগ ৬ মাসের আগেই অ্যাডসেন্স পেয়ে থাকে। আমি মাত্র ১৫ পুরোনো ডোমেইন দিয়ে অ্যাডসেন্স পেয়েছি কিন্ত আমার ব্লগ প্রায় ১০ মাসের পূরোনো ছিল।

রুট ডোমেইন "root domain" দিয়ে আবেদন করবেনঃ
আবেদন করার সময় রুট ডোমেইন দিয়ে আবেদন করবেন যেমন, "yourdomain.com"
কখোনো সাবডোমেইন দিয়ে আবেদন করবেন না যেমন, "blog.yourdomain.com"

কপিরাইটেড ইমেজ ব্যবহার করবেন নাঃ
 গুগল কখনোই ওই ব্লগের আবেদন গ্রহন করে না যে ব্লগে কপিরিটেড কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয়। কপিরাইটেড মানে হল পারমিশন ছাড়াই আপনি অন্যের ডাইরেক্টরি থেকে কিছু কপি করলেন৷ ঠিক এই ভুলটি করি আমরা ইমেজ ব্যবহার করার সময়। কোন এক ডাইরেক্টরিতে যেখানে ইমেজ রয়েছে, ডাউনলোড দিয়ে ব্লগে আপলোড করি। আপনি কি চেক করে দেখেছেন এই ইমেজ ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে কি না? বেশিরভাগ ওয়েবমাস্টার এই কপিরাইটেড সমস্যার কারনে গুগন অ্যাডসেন্স পেতে ব্যর্থ হয়।

ব্লগের ডিজাইন এবং গঠন সুন্দর ভাবে তৈরি করবেনঃ
 অবশ্যই ব্লগ সুন্দর ভাবে ডিজাইন করবেন। সুন্দরভাবে হেডার, কন্টেন্ট এরিয়া, সাইট বার, ফুটার ডিজাইন করবেন। ব্লগের গঠন এমন করবেন যেন ভিজিটরদের এটি পছন্দ হয়। যদি ভিজিটররা আপনার ব্লগ পছন্দ করে; অবশ্যই গুগল অ্যাডসেন্স ও পছন্দ করবে।

চেক করে দেখুন আপনার ব্লগ গুগল ব্লক"block" করেছে কি নাঃ
নিশ্চিত হয়ে নি আপনার ব্লগ গুগল দ্বার ব্লক কি না। অ্যাডসেন্স অবশ্যই তাদের সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে এটি পরিক্ষা করে দেখবে। জানেন না কিভাবে চেক করবেন? গুগলে সার্চ করুন" site:yourdomain.com" যদি আপনার সাইট আসে তাহলে বুঝবেন ব্লক না আর যদি না আসে তাহলে বুঝবেন ব্লক।

অ্যাডসেন্স নিষিদ্ধ করেছে এমন কন্টেন্ট ব্যবহার করবেন নাঃ
গুগল সরাসরি বলে দিয়েছে যে,  এডাল্ট কন্টেন্ট, ড্রাগ-এলকহল সম্পর্কিত কন্টেন্ট,কপিরাইটেট কন্টেন্ট, হ্যাকিং ক্রাকিং সম্পর্কিত, অস্ত্র রিলেটেড এবং অন্যান্য অবৈধ কন্টেন্ট আপনার ব্লগে থাকলে কখনোই আপনার আবেদন গ্রহন করবে না।

অ্যাডসেন্স পেতে ভিজিটর কোন সমস্যা নয়ঃ
গুগল অ্যাডসেন্স পেতে ভিজিটর কোন বড় সমস্যা নয়। মূল কথা হল আপনার ব্লগের মান কত ভাল তার উপর নির্ভর করে গুগল অ্যাডসেন্স পাবেন। মনে রাখবেন অ্যাডসেন্স মডারেটর কখনোই আপনার ভিজিটর কাউন্ট চেক করে দেখবে না। তাই ভিজিটর নিয়ে চিন্তা করবেন না। তবে ভাল পরিমান আয় করতে আপনার অবশ্যই বেশি ভিজিটর দরকার।

গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করুনঃঃ

আপনি যদি উপরের সব নিয়ম মেনে ব্লগিং করেন তাহলে আপনি প্রথম বারেই গুগল অ্যাডসেন্স পেয়ে যাবেন।যদি এই সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকে অবশ্যই জানাবেন। আমার আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে ভাল লাগবে। যদি আপনি এই আর্টিকেলটি পছন্দ করেন তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ