কিভাবে নিজের ব্লগ তৈরি করবেন | ব্লগ তৈরির টিউটোরিয়াল




বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন?
আশাকরি করি সবাই ভাল আছেন।
আজকে আমি এই পোস্টে কিভাবে ব্লগসাইট খুলে সেই ব্লগসাইট থেকে ইনকাম করবেন তার বিস্তারিত আলোচনা করব৷

আজকের আলোচনার বিষয় হল,
#১ যেভাবে ব্লগস্পট থেকে ফ্রিতে একটি ব্লগার সাইট তৈরি করবেন।
#২ ব্লগস্পট সাইটের ড্যাসবোর্ডের সাথে পরিচিত হব।
#৩ যেভাবে ব্লগার সাইট কাস্টমাইজড করবেন। a to z.
#৪ যেভাবে আপনার সাইট গুগল ওয়েবমাস্টারে সাবমিট করবেন।
#৫ যেভাবে ব্লগার সাইট থেকে ইনকাম করবেন।
#৬ যেভাবে ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স পাবেন৷
#৭ অ্যাডসেন্স না পেলে বা আপনার আবেদন রিজেক্ট করে দিলে কি করবেন।
#৮ অ্যাডসেন্স এর বিকল্প।

এই সব বিষয়ে আপনাকে জানতে হলে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে হবে৷ বুঝতেই পারছেন পোস্টটি অনেক বড় হবে। তো চলুন শুরু করা যাক।

যেভাবে ব্লগস্পট থেকে ফ্রিতে একটি ব্লগার সাইট খুলবেন৷

আজকাল খুব সাধারন মানুষের একটি ব্লগার সাইট থাকে। আপনারা ব্লগস্পট থেকে ফ্রিতে  একটি ব্লগার সাইট তৈরি করতে পারেন৷ ফ্রিতে ওয়েবসাইট খোলার জন্য অনেক সাইট রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় "wordpress ও blogspot" থেকে ব্লগসাইট খুললে৷ তবে ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগসাইট খোলা অনেক সহজ এবং এটি খুব সহজে কাস্টমাইজড করা যায়।

ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগার সাইট খোলার জন্য আপনাদের প্রয়োজন হবে একটি জিমেইল একাউন্ট।


  • প্রথমে blogger.com এ যাবেন। 
  • তারপর create your blog এ ক্লিক করবেন।
  • এর পর আপনার জিমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন আপ করুন। 
  • এখন উপরের বামপাশে new blog লেখায় ক্লিক করুন। 
  • এখন আপনার ব্লগ এর title দিন। আপনি যে বিষয়ে ব্লগ খুলতে চান সেই রকম একটি নাম দিন। 
  • এখন address এর যায়গায় আপনার ব্লগের জন্য একটি ডোমেইন সেট করুন। এখানে আপনার ডোমেইনটি হবে সাবডোমেইন।যেমন, (yourdomain.blogspot.com)

  • আপনি চাইলে পরে নিজের কেনা কাস্টম ডোমেইন পরে সেট করতে পারবেন। 
  • নিচের দেওয়া থিম থেকে যে কোন একটি থিম সিলেক্ট করে create blog এ ক্লিক করুন। 


আপনার ব্লগ খোলা হয়ে গেছে। এখন আপনাকে এই ব্লগটি কাস্টমাইজড করতে হবে। কাস্টমাইজড করার আগে আমরা প্রথমে ব্লগস্পট সাইটের ড্যাসবোর্ডের সাথে পরিচিত হব।

ব্লগস্পট সাইটের ড্যাসবোর্ডের পরিচিতি 

  • new post - আপনি কোন নতুন পোস্ট করতে চাইলে এখান থেকে করতে হবে। 
  • post: এখানে আপনি কতটি পোস্ট করেছেন, কয়টি পাবলিশ হয়েছে এবং কতটি ড্রাফট এ রয়েছে তা দেখতে পারবেন। 
  • stats - এই অপশন টার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার ব্লগে প্রতিদিন, প্রতিমাসে এবং সর্বমোট কত ভিঊ হয়েছে। এছাড়াও কোথা থেকে ভিজিটর আসছে তা জানতে পারবেন। এবং ভিজিটররা কোন ব্রাউজার ব্যবহার করে তাও জানতে পারবেন৷ 
  • comments - আপনার পোস্টে কেউ কমেন্ট করলে এখান থেকে জানতে পারবেন। 
  • earnings- এখান থেকে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য অ্যাপলাই করতে পারবেন। আপনার মোট আয় কত হয়েছে তাও দেখতে পারবেন। 
  • pages - এখান থেকে আপনি ব্লগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পেজ গুলো তৈরি করে পাবলিশ করতে পাতবেন।
  • layout - এই অপশন দিয়ে আপনি আপনার ব্লগের লে-আউট ভাল করে কাস্টমাইজড করতে পারবেন। আপনার ব্লগের কোন জায়গায় কোন অপশন রাখবেন তা এখান থেকে ঠিক করতে পারবেন। মোটকথা এখান থেকে আপনার ব্লগকে সুন্দর করে সাজাতে পারবেন। 
  • Theme - আপনি আপনার ব্লগের জন্য থিম আপলোড করতে পারবেন। আপনার থিম ব্যাক আপ করে রাখতে পারবেন। এখান থেকে আপনি আপনার থিম এডিট করতে পারবেন। 
  • Setting - সেটিং অপশটা অনেক গুরুপ্তপূর্ন। এখান থেকে আপনি পোস্ট, কমেন্ট, শেয়ারিং, মেটাডিস্ক্রিপশ,ব্লগে কাস্টম ডোমেইন সেট, আপনার ব্লগের seo এর কাজসহ অনেক কাজ করতে পারবেন। সেটিং নিয়ে লিখতে চাইলে পুরো একটি পোস্ট লেখা যায়। 

আমরা ব্লগের ড্যাসবোর্ডের সাথে পরিচিত হয়েছি। এখন আমাদের ব্লগকে কাস্টমাইজড করতে হবে
আশাকরি এখন আপনার ব্লগ কাস্টমাইজড করতে হবে। তবে কাস্টমাইজড করার আগে আপনাদের ব্লগের জন্য একটি সুন্দর থিম ইন্সটল করতে হবে। আপনি চাইলে ব্লগের দেওয়া contempo থিমটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনার গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন অ্যাডসেন্স ফ্রেন্ডলি থিম লিখে৷ থিম ইন্সটল কিরে লে-আউট অপশনে গিয়ে ইচ্ছেমত কাস্টমাইজড করুন।

যেভাবে ব্লগসাইট গুগল ওয়েবমাস্ট টুল এ সাবমিট করবেন।

প্রথমে ব্লগের ড্যাসবোর্ড থেকে সেটিং এ যাবেন। তারপর নিচের দিকে (google search console, robots txt, robots header tag) এই তিনটা অপশন দেখতে পাবেন।

প্রথমে আপনাকে একটি robots txt ফাইল জেনারেট করতে হবে। এই জন্য গুগলে সার্চ দিবেন (robots txt generator for blogspot site)। এখন আপনার জেনারেট করা ফাইলটি এখানে পেস্ট করুন।
custom robots hrader tags এ নিচের দেওয়া পিক এর মত করে সেটিং করুন। (all, noodp,noindex,noodp,all,noodp)৷



এখন edit search console  এ ক্লিক করুন। আপনাকে গুগল ওয়েব মাস্টারে নিয়ে যাওয়া হবে৷ আপনি add poperty তে ক্লি করুন৷ আপনার সাইটটি  https সহকারে লিখুন এবং অ্যাড করুন। এখন crawl অপশন থেকে sitemap এ ক্লিক করুন। sitemap.xml লিখে সাবমিট করুন।
এখন একটি কাজ বাকি আছে তাহল সাইটটি যে আপনার তা প্রমান করার জন্য ownership ভেরিফাই করতে হবে। সবচেয়ে সহজ হল html tag মাধ্যমে ভেরিফাই করা। শুধু কোডটি কপি করুন আর আপনার থিম এর <head> এর নিচে পেস্ট করুন।

যেভাবে ব্লগস্পট সাইটে google adsense পাবেন

গুগল অ্যাডসেন্স এ আবেদন করার আগে আপনার কয়েকটি কাজকরতে হবে।
১- আপনার সাইটে একটি কাস্টম মাস্টার ডোমেন অ্যাড করতে হবে। যেমন .com,.net,.org ইত্যাদি
২- কপি পেস্ট বন্ধ করতে হবে৷ সব পোস্ট ইউনিক ও মানসম্মত হতে হবে।
৩- ২০-৩০ টি পোস্ট পাবলিশ করতে হবে। প্রতিটি ৩০০ ওয়ার্ড এর বেশি হলে ভাল হয়।
৪- আপনার ব্লগে অবশ্যই privacy policy, about us, contact us, disclaimer, terms and condition এই পাচটি পেজ থাকতে হবে।
৫- আপনার ব্লগের জন্য সুন্দর একটি sitemap পেজ বানাতে হবে।
৬- আপনার ব্লগের বয়স ৬ মাস হতে হবে।
৭- নতুন ডোমেইন অ্যাড করলে তার বয়স ১ মাস হলে ভাল হয়।
৮- আপনার বয়স ১৮ এর বেশি হতে হবে৷
৯ - আপনার ব্লগ ওয়েবমাস্টার টুল এ সাবমিট করতে হবে। এবং ঠিক মত ইন্ডেক্স হচ্ছে কিনা চেক করে দেখতে হবে৷
১০- সুন্দর একটি রিসপন্সিব থিম ইন্সটল করতে হবে৷
১১- আপনার ব্লগে অবৈধ কোন কিছু না থাকে যেমন, হ্যাকিং, ক্রাকিং,, ড্রাগস, সেক্সুয়াল কোন বিষয় ইত্যাদি। ১২- আপনাকে অবশ্যই গুগলের সব পলেছি মেনে চলতে হবে।
এই কাজগুলো করলে আপনি অবশ্যই আপনি আপনার ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স পাবেন।

গুগল অ্যাডসেন্স আবেদন রিজেক্ট করে দিলে কি কিরবেন?
প্রথমে যে কাজটি করবেন তা হল হতাস হবেন না। যে কারনে আপনার অ্যাকাউন্ট রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে সেটি সংশোধন করুন। ৫-১০ টি নতুন পোস্ট করুন। কিছুদিন পর আবার চেস্টা করুন।

গুগল অ্যাডসেন্সের বিকল্প
আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের বিকল্প লিখে গুগলে সার্চ করলে অনেক বিকল্প পাবেন। তবে ভাই সত্যি কথা হল গুগল অ্যাডসেন্সের কোন বিকল্প নেই। আপনি অনেক সাইট পাবেন যারা বলবে গুগল অ্যাডসেন্সের চেয়ে বেশি পে করবে কিন্তু তার জন্য যে ভিজিটর লাগবে তা আপনি নতুন ব্লগার হিসাবে কই পাবেন। এছাড়া বাংলাদেশি একটি সাইট আছে green red যারা প্রতি ১০ হাজার ভিউতে ১ ডলার দেয়। এছাড়া আপনি যদি পপ-আপ অ্যাড ব্যবহার করেন তাহলে আমার মনে হয় না দ্বিতীয় বার আপনার ব্লগে কেউ আসবে৷ তাই বুঝতেই পারছেন গুগল অ্যাডসেন্সের কোন ভাল বিকল্প নেই।


যেহেতু পোস্টটি অনেক বড় হয়েছে তাই কিছু বাদ পরে যেতে পারে। তারপরও যদি আপনাদের বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে কমেন্টে জানাবেন আমি সাহায্য করার চেস্টা করব। ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন৷

Post a Comment

0 Comments