জেনে নিন সাহিত্যে মুসলিম মনীষীদের অবদান

সাহিত্য মানবজীবনের প্রতিবিম্ব। মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই সাহিত্য ছিল সমাজজীবনের দর্পণ। আরবদের
অনৈতিক ও বিশৃঙ্খল জীবনের কলুষ-কালিমা সাহিত্যকে মানবিক মূল্যবােধহীন করে তুলেছিল।

মুসলিম মনীষীগণ প্রথম
সাহিত্যকে মানবিক মূল্যবােধ ও সুকৃতি বিকাশের বাহনে পরিণত করেন। কুরআন মাজিদ অবতরণের মধ্য দিয়ে এ ধারা সুচিত হয়।

আল্লাহর কালাম আল কুরআনের তুলনাহীন শব্দচয়ন, ভাষাশৈলি ও বিন্যাস পদ্ধতি পূরো সাহিত্য জগৎকে বিস্মিত করে।

এর বিষয় উপস্থাপনা ও রচনার সামনে অশালীন সাহিত্য আবেদনহীন হয়ে পড়ে।

কুরআন মাজিদের
আল্লাহর কালাম আল-কুরআনেের
ঐশী প্রভাবে অনৈতিক সাহিত্য রচনার ধারা বন্ধ হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (স)-এর অবদান: রাসুলুল্লাহ (স)-এর হাদিস সাহিত্যে মুসলিম মনীষীদের পদচারণা সুগম করে তােলে।
ব্যক্তিগতভাবে নবি (স) শিষ্ট ও সুরুচিসম্পন্ন সাহিত্যের সমঝদার ছিলেন।

তিনি এর বিরােধিতা করেননি। এ জাতীয়
সাহিত্য চর্চাকে নিরুৎসাহিতও করেননি। তাঁর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপােষকতায় লবীদ (রা), হাসসান বিন সাবিত (রা), কাব
বিন যুহাইর (রা) প্রমুখ সাহাবি কবি অমর কাব্য রচনা করে প্রথম সার্থক ইসলামি সাহিত্য সৃষ্টি করেন।

খােলাফায়ে রাশিদুন, উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসকদের অবদান: খােলাফায়ে রাশিদার স্বর্ণযুগে খলিফাদের সহযােগিতায়
ইসলামি সাহিত্যের গতি অব্যাহত থাকে। চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা) নিজে দিওয়ান-ই-আলী’ ও নাহজুল বালাগা
নামে শিক্ষামূলক কাব্য সম্ভার উপহার দেন।

আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের প্রচেষ্টায় প্রাচীন আরবি কবিতাসমূহ
গ্রন্থাবদ্ধ হয়।

খলিফা হারুন অর রশীদের সময়ে বিশ্ববিখ্যাত আরব্য রূপকথা ‘আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা‘ রচিত হয়।
পরবর্তীযুগের মনীষীদের অবদান মুসলিম কবি সাহিত্যিকদের অবদানে সর্বাধিক সমৃদ্ধ সাহিত্যে ভাণ্ডার গড়ে ওঠে উর্দু ও
ফার্সি ভাষায়। আমীর খসর, নূর কুতুবুল আলম, শেখ জাহিদ কাব্য রচনায় নতুন ধারার সূচনা করেন।

মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী, শেখ সাদী, জামী, নিযামী, হাফিয, ফেরদৌসী প্রমুখ সাহিত্যে সুফি ভাবধারা ও ইতিহাসমুখিতা সংযুক্ত
করেন।

দাস্তানে আমীর হামযা’ ‘মসনবি’ “শাহনামা’ গুলিস্তা, বুস্তা প্রভৃতি কালজয়ী ফার্সি কাব্যগ্রন্থ। মহাকবি ইকবাল,
মির্যা গালিব, কবি হালি প্রমুখ উর্দু সাহিত্যের উন্নতি ও অগ্রগতির চেষ্টা করেন। ইকবালের “শিকওয়া ওয়া জওয়াবে
শিকওয়া চিন্তাশীল সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন।

বাংলা সাহিত্যে মুসলিম মনীষীদের অবদান: মুসলিমদের প্রত্যক্ষ অবদানেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিকশিত হয়েছে।

শাহ মুহাম্মদ সগীর, দৌলত উজির, সৈয়দ সুলতান, আলাওল, কায়কোবাদ, শেখ ফয়জুল্নাহ প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের
উন্মেষে ও বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন। কবি নজরুল ইসলাম, সৈয়দ ইসমাইল হােসেন সিরাজী, ফরবুখ আহমদ
প্রমুখ বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিবেন আর কোন ভুল হলে কমেন্টে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.