দুআ কেন করবেন? দুআর গুরুত্ব ও ফজিলত

Advertisements

১. আল্লাহ তাআলা দু’আ কবুল করেন :

তােমাদের রব বলেন, তােমরা আমাকে ডাকো, আমি তােমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারের কারণে আমার ইবাদাত থেকে নাফরমানী করে, অচিরেই তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সূরা মুমিন- ৬०)

আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্বন্ধে তােমাকে জিজ্ঞেস করে তখন তাদেরকে বলে দাও, নিশ্চয় আমি (তার) নিকটেই রয়েছি।

কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে ডাকে তখনই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে থাকি। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস
করে, এতে করে তারা সঠিক পথে চলতে পারবে। (সূরা বাকবারা- ১৮৬)

এ আয়াতগুলােতে মহান আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বলেছেন যে, তােমরা আমার কাছে চাও, আমাকে ডাকো, আমি তােমাদের ডাকে সাড়া দেব।

২. প্রতি রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন :

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন আমাদের মহান রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ
বাকি থাকে। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাদেরকে ডেকে বলেন, কে আমাকে
ডাকবে- আমি তার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার কাছে চাইবে- আমি তাকে দান
করব। কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে- আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

সহীহ বুখারী, হা/১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮০৮; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪৯৮; তিরমিযী,
হা/৩৪৯৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৬৬; মিশকাত, হা/১২২৩।

৩. আল্লাহকে ডাকলে বান্দারই কল্যাণ হয় ।
আপনি বলুন, তােমাদের ব্যাপারে আমার রব কোন পরােয়া করেন না, যদি তােমরা তাকে না ডাক। তােমরা তাে তাকে অস্বীকার করেছ। কাজেই শীঘ্রই
তােমাদের উপর এসে পড়বে আযাব। (সূরা ফুরকান- ৭৭)

এ আয়াতের মধ্যে বলা হয়েছে যে, আল্লাহকে না ডাকলে আল্লাহর কিছু আসে-যায় না। তাই আমাদের নিজেদের প্রয়ােজনে আল্লাহকে ডাকতে হবে
এবং তাঁর কাছেই চাইতে হবে।

৪. দু’আ ইবাদাতের একটি মৌলিক অংশ :

নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন,
দু’আ হচ্ছে ইবাদাত।

আবু দাউদ, হা/১৪৮১; তিরমিযী, হা/২৯৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮২৮; মুসনাদে আহমাদ,
হা/১৮৩৭৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৮০২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৮৯০; মিশকাত, হা/২২৩০।

৫. দু’আ আল্লাহর কাছে অতি সম্মানিত জিনিস :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কাছে দু’আর চাইতে অধিক সম্মানজনক আর কোন জিনিস নেই।

জেনে নিন সাহিত্যে মুসলিম মনীষীদের অবদান

তিরমিযী, হা/৩৩৭০; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৭৩৩; আদাবুল
মুফরাদ, হা/৭১২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৮০১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৮৭০; মিশকাত, হা/২২৩২

৬. দু’আর ফলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় :
সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন
দু’আ ছাড়া অন্য কিছু তাকদীর পরিবর্তন করতে পারে না, আর নেকী ছাড়া অন্য কিছু বয়স বাড়াতে পারে না।

* তিরমিযী, হা/২১৩৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৮১৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৮৭২; সহীহ
তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৬৩৯; জারমেউস সগীর, হা/১৩৬৪৫; মিশকাত, হা/২২৩৩।

৭. আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি খুশি হন :
দুনিয়াতে কোন মানুষের কাছে কিছু চাইলে সে নারাজ হয়, অথচ আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ তা’আলা খুশি হন।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বণিত । রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার প্রতি রাগ করেন।

৮. আল্লাহ বান্দার হাতকে খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবােধ করেন :

সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,
তােমাদের রব লজ্জাশীল ও দাতা। বান্দা যখন তাঁর কাছে দু’হাত তুলে কিছু
চায়, তখন তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবােধ করেন।

৯. কোন দু’আই বিফলে যায় না :

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,
কোন মুসলিমের দু’আ যদি পাপ কাজ ও রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য না হয়, তবে
তার দু’আর কারণে নিচের এ তিনটির একটি ফল অবশ্যই আল্লাহ তাকে
দান করবেন। সেগুলাে হলাে :

ক. হয় দুনিয়াতেই তার চাওয়া বস্তু তাকে দিয়ে দেবেন,
খ, অথবা পরকালে তাকে এর প্রতিদান দেবেন,
গ, অথবা তার থেকে অনুরূপ কান অমঙ্গল দূর করে দেবেন

রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর বক্তব্য শুনে সাহাবীগণ বললেন, তাহলে আমরা বেশি বেশি দু’আ করব। নবী
বললেন, আল্লাহ আরাে অধিক দান করবেন।

তিরমিযী, হা/৩৩৭৩; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৫৮; জামেউস সগীর, হা/৪১৮৩: মিশকাত, হা/২২৩৮।

তিরমিযী, হা/৩৫৫৬; আবু দাউদ, হা/১৪৮৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৮৭৬ জামেউস সগীর,
হা/২৬৩৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৬৩৫; মিশকাত, হা/২২৪৪।

মুসনাদে আহমাদ, হা/১১১৪৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৯৭৮०; সহীহ তারগীব
ওয়াত তারহীব, হা/১৬৩৩; মিশকাত, হা/২২৫৯।

Leave a Reply