লম্বা হওয়ার সহজ উপায় | লম্বা হওয়ার গোপন ট্রিকস

লম্বা হওয়ার সহজ উপায় নেই। উচ্চতা বৃদ্ধি মূলত বংশগত। তারপরেও কিছু কিছু খাদ্যাভ্যাস, লম্বা হওয়ার ব্যায়াম ও কিছু নিয়ম মেনে চললেও কিছুটা লম্বা হওয়া যেতে পারে।

জেনে নিন লম্বা হওয়ার উপায় বিস্তারিতভাবে। উচ্চতা বৃদ্ধির মূল উপাদান গ্রোথ হরমোন এমন একটি পদার্থ যা শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়।

বেশী পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালরি, খনিজ পদার্থ, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন খাদ্যাভ্যাস যা মানবদেহের নতুন কোষ গঠন, হাড় নির্মাণ এবং সেলের গঠন নির্মাণে সহায়তা করে।

তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে, মানবদেহ বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে জিনতত্ত্বের উপর। আর বাকি ২০% অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর।

Contents

লম্বা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

একটু ভাল লম্বা চওড়া ফিগার কে না চায়।

এমনকি যার বেশ ভালো লম্বা তাদেরও মনে হয় আরও ১-২ ইঞ্চি লম্বা হতে পারলে বেশ ভাল মানাত!

আসলে আমরা কতটুকু লম্বা হবো তা আমাদের বংশগতি থেকেই নির্ধারিত হয়।

তবে একথাও ঠিক আমাদের পূর্বপুরুষেরা লম্বা হলেও আমরা যদি অপুষ্টিতে ভূগি তবে আমাদের বৃদ্ধি ঠিকমত হবে না।

আর মানুষের দেহের বৃদ্ধি ঘটে ২৫ বছর বয়স পর্যন্তই। তাই কিশোরকাল থেকেই এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনটি জিনিসের সমন্বয় লম্বা হতে সাহায্য করবে:-

১. পুষ্টিকর খাবার

২. নিয়মিত ব্যায়াম

৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম

 

কী কী থাকতে হবে খাবার তালিকায়:

* মিনারেলস:

পর্যাপ্ত পরিমান বিভিন্ন রকমের মিনারেল আমাদের খাবার তালিকায় রাখতে হবে। আমাদের দেহে প্রতিটি কাজে মিনারেলের ভূমিকা রয়েছে ।

হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে মিনারেল একান্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। বিষেশভাবে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যেন পরিমাণ মত গ্রহণ করা হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ, খেজুর, বাধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, পালং শাক, পুই শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াসম আছে।

দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, মাংস, এমনকি সবজিতেও ফসফরাস রয়েছে।

আয়রন পাওয়া যায় খেজুর, ডিমের কুসম, কলিজা, গরুর মাংসে।

ম্যাগনেসিয়াম আছে আপেল, জাম্বুরা, ডুমুর, লেবু ইত্যাদিতে। জিন্ক পাওয়া যায় ডিম, সূর্যমূখীর বীচিতে।

* ভিটামিন:

আমাদের প্রয়োজনীয় সব রকমের ভিটামিনই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল থেকে পাওয়া যায়।

কিন্তু খাবারের ভিটামিন দেহে কতটুকু গৃহিত হচ্ছে তা বোঝা বেশ কঠিন।

তাই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ভিটামিন-বি১ আছে চীনা বাদাম, লাল চাল,গমে। ভিটামিন-বি২ আছে মাছ, ডিম, দুধে।

ভিটামিন-বি৬ রয়েছে বাধাকপি, কলিজা, গরুর মাংসে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় মাছের তেল, দুগ্ধজাত খবার থেকে।

ভিটামিন-ই আছে ডিম, সয়াবিন, গমে। ভিটামিন-এ আছে ডিমের কুসুম, গাজর, দুধ ও কলিজায়।

* প্রোটিন:

হাড়ের বৃদ্ধির সাথে সাথে মাংসপেশীরও বৃদ্ধি পেতে হবে লম্বা হওয়ার জন্য।

আর মাংস পেশির বৃদ্ধি ও মজবুত হওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রোটিন।

খাবার তালিকায় ভাল মানের প্রোটিন যেমন- মাছ, মাংস, ডিম রাখুন।

বিভিন্ন রকমের ডাল, মটরশুটি, সীমের বীচি, কাঠালের বীচি ইত্যাদি থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়।

খাবার তালিকায় সয়া প্রোটিন, বিভিন্ন রকমের প্রোটিন সেইক যোগ করতে পারেন। *

কার্বোহাইড্রেট:

অনেকেই লম্বা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে থাকেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট লম্বা হওয়াকে বাধাগ্রস্থ করে।

কারণ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ মানে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ। এর ফলে ইনসুলিন নামক হরমোনও নিঃসৃত হবে বেশি।

ইনসুলিন দেহের গ্রোথ হরমনের কার্যকারীতা কমিয়ে দেয়।

তাই খাবার তালিকায় লাল আটা, লাল চাল, ওট ইত্যাদি রাখুন ময়দা, সাদা আটা, পলিশ চালের পরিবর্তে। * পানি:

পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে, কম হলেও ২ লিটার প্রতিদিন। যেসব কারণে লম্বা হওয়া বাধা পায়:-

ঘুমের অভাব- দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন

খেলা-ধূলা করা-বাস্কেট বল, ভলিবল খেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন

দড়ি লাফের মতো সাধারণ ব্যায়াম শুরু করুন

অপুষ্টি-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন

দেহের কোনো অংশে অসঙ্গতি থাকলে, ফিজিওথেরাপিষ্টের সাহায্য নিতে হবে

যে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে:-

মদ্যপান ও ধূমপানসহ সব ধরণের মাদকের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ এগুলো দেহের হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করে।

লম্বা হওয়ার ব্যায়াম ও খেলাধুলা

শৈশব থেকেই যারা সুঠাম দেহের অধিকারী হয় এবং অনেক বেশি খেলাধুলা করে থাকে তাদের উচ্চতা অন্যদের তুলনায় বেশি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এমনকি সাতার, ফুটবল, আরোবিক্স, ক্রিকেট, টেনিস, বাস্কেটবলের মতো খেলার মাধ্যমে দেহের উচ্চতা বৃদ্ধি করে লম্বা হওয়াতে সহায়ক।

এছাড়া হাঙ্গিং, স্ট্রেচিং ধরণের লম্বা হওয়ার ব্যায়াম করতে পারেন।

কারণ যারা সুঠাম দেহের অধিকারী এবং অনেক বেশি খেলাধুলা, ব্যায়াম করেন তারা স্বভাবতই অন্যদের তুলনায় একটু বেশি পুষ্টিকর খাবার খেয়ে থাকেন। এতে দুটো ব্যাপারই কাজ করে উচ্চতা বৃদ্ধিতে।

সঠিকভাবে ঘুমান

লম্বা হওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে হাঁটাচলা করার সময়, বসার সময় সঠিকভাবে ঘাড় ও মেরুদণ্ড সোজা রাখবেন।

ঘুমানোর সময়ও ঘাড় সোজা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা লম্বা হবার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে।

লম্বা হওয়ার গোপন ট্রিকস

জিনতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভেবে থাকি যে আমদের বৃদ্ধি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাদের বংশের উপর।

অর্থাৎ আমরা বংশগত ভাবে ঠিক যতটুকু বৃদ্ধি পাবো তার থেকে এক চুলও বেড়ে উঠা সম্বভ নয়।

তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে আপনার বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আপনার বংশের উপর।

আর বাকি ২০% ই আপনার উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর।

তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।

The School of Medicine of the University of Southern California in Los Angeles এর একদল চিকিৎসক যাদের দলনেতা ডঃ মিচেল ই জেনিফার, তারা কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা চালিয়ে একটি চূড়ান্ত উচ্চতার পূর্বাভাস সূত্র প্রকাশ করেছেন।

তা হলঃ-

মেয়েদের জন্য: [(পিতার উচ্চতা – 5 ইঞ্চি) + মা এর উচ্চতা] দুই দ্বারা বিভক্ত

ছেলেদের জন্য: [(মায়ের উচ্চতা + 5 ইঞ্চি) + পিতার উচ্চতা] দুই দ্বারা বিভক্ত

তবে

সকল ক্ষেত্রে যে তা হবে সেটা কিন্তু নয়। আপনারা সবাই জানেন যে জেনেটিক্স এবং পুষ্টির মাধ্যমে উচ্চতা রয়েছে।

বেশী পরিমাণ ক্যালরি, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন খাদ্যাভ্যাস যা আপনার নতুন কোষ এবং হাড় নির্মাণ ‘উপকরণ’ এবং সেলের গঠন নির্মাণে সহায়তা করবে।

এছাড়াও দিনে আট ঘন্টা ঘুম আপনার বৃদ্ধি ক্ষমতা বাড়াতে আরো সহায়তা করবে।

এখন ব্যপার হল আপনি দিনে আট ঘন্টা কেন ষোল ঘন্টা ঘুমান তারপর আবার পরিমান মত খাবারও খান এর পর যথাযত উচ্চতা লাভ হচ্ছে না বা আপনি তার উপর সন্তুষ্ট না।

তাই এবার আপনাদেরকে দেখানো হবে,

কিভাবে আপনি আপনার শরীরের ৯৯% উচ্চতা বৃদ্ধি করবেন।

আসলে এটি একটি প্রক্রিয়া যা আপনি আপনার সর্বাধিক সম্ভাব্য বৃদ্ধি নিতে সাহায্য করবে। এই উপাদান কি?

আপনার উচ্চতা বাড়ার মূল উপাদান হল একটি পদার্থ যা আমাদের শরীরের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং এটাকে বলা হয়: মানুষের গ্রোথ হরমোন।

এটি একটি হরমোন যে আপনার শরীরের উত্পাদন (ভালো টেসটোসটের এবং ইস্ট্রজেন) শুধু তাই নয় উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী – এই বায়োকেমিক্যাল রসূল যার মাধ্যমে আপনি লম্বা হন, এটি আপনার শরীরের হাড় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় এবং আপনার কোষ প্রয়োজনিও সেল গুলিকে দ্রুততর বিভক্ত করে।

এটা 1920 এর মধ্যে প্রথম আবিষ্কৃত হয় এবং এর উচ্চতা বৃদ্ধির উপকারিতা শুধুমাত্র সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে।

আপনি কি জানেন যে দ্রুত বড় হওয়া শিশুদের হরমোন স্বাভাবিক বড় হওয়া শিশুদের থেকে খুব উচ্চ স্তরের আছে। তাই, এখানে আপনাদেরকে বলা হবে কিভাবে আপনি আপনার হরমোনকে সেই স্তরে নিয়ে যাবেন যা আপনার পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

হরমোনের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি সংক্রান্ত মাত্রা পদ্ধতি খুব কার্যকর, বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ!

৮ টি সহজ স্বাভাবিকভা উপায়ে উচ্চতা বৃদ্ধি

১. এই বৃদ্ধি পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশন দ্বারা মানবদেহে হরমোন বৃদ্ধি করা হয়,

কিন্তু এটি সম্পূর্ণ বেআইনি যার কারনে একজন ডাক্তার কখনই আপনাকে এরকম কিছু প্রেস্ক্রাইব করবে না,

এবং এটি খুবই ব্যায়বহুল যার কারনে আমিও আপনাকে সাজেশ করব না।

২. দুধ পান আপনাকে লম্বা হওয়ায় অনেক সাহায্য করবে কারণ ক্যালসিয়াম আপনার শরীররের হাড় এর বৃদ্ধি ঘটায়,

আরেকটা বেপার যা আমাদের দেশে নেই সেটা হল আমেরিকায় তাদের গরু মধ্যে বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় যার মাধ্যমে – হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি হয়, এবং সেই প্রকিয়াজাতকরন দুধ হয় সাধারণ দুধ এর বিকল্প।

৩. নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম (ওজন উদ্ধণ) হরমোন (HGH) বৃদ্ধি করে।

এটি বৃদ্ধি সংক্রান্ত হরমোনের মাত্রা আরও উন্নত করার জন্য বহুল পরিচিত এবং পদ্ধতি খুবই কার্যকর.

আর অতিরিক্ত পেশী আপনাকে আরো সাহয্য করবে আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী হতে।

৪. তীব্র sprinting ব্যায়াম মানব বৃদ্ধির হরমোনে একটি বিস্ফোরণ ঘটায় এছাড়াও আপনার হরমোনকে আরও উন্নত করে।

আসলে, যে কোনো কঠিন শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই সেটা ২১বছর বয়স হওয়ার পর।

৫. Niacin supplementation : Niacin একটি প্রাকৃতিক ভিটামিন নামক ভিটামিন B3.

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫০০গ্রাম নিয়াসিন নেওয়া মানুষের থেকে সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি কম ঘটে।

৬.মানসিক চাপ কমানঃ স্ট্রেস বা মানসিক চাপ যা হচ্ছে আপনার লম্বা বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা।

যাতে আপনার হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উত্পাদিত হয়। ভিটামিন C সম্পূরকসমূহ যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে।

৮. ঘুমঃ কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘমানো । এটি সবচেয়ে সহজ এবং অনেক কার্যকরী উপায়।

সঠিক এবং সুন্দর ভাবে ঘোমানো আপনার দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলে।

তবে আপনাকে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলতে হবেঃ

ড্রাগ এবং এলকোহল এই ২টিই আপনার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক বড় বাঁধা।

ধূমপান যেমনি সাস্থের জন্য ক্ষতিকর তেমনি দেহের হরমোন গঠনও কমিয়ে ফেলে।

(জানি এ বেপারটা আপনাদের অনেকেরই ভাল লাগেনি। তবুও এটি সত্য)

তবে ১৮ বছরের পর যারা তাদের উচ্চতা বারানোর জন্য বিস্তারিত এখানে দেখে আসতে পারেন। নেট এ সার্চ দিয়ে আরও অনেক ফলাফল পাবেন।

৮-১১ ঘণ্টা ঘুম ও বিশ্রাম

প্রাকৃতিক উপায়ে লম্বা হবার সবচাইতে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে ঘুম।

ঘুম আমাদের মানসিক ও শারীরিক শান্তির পাশাপাশি ঘুমের সময় দেহ গঠনের টিস্যুগুলো কাজ করে।

আমাদের দেহে শরীর গঠনের হরমোন প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপন্ন হতে থাকে পরিমিত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম নেয়ার মাধ্যমে।

এরফলে আমাদের উচ্চতা ও শারীরিক গঠন বৃদ্ধি পায়। তাই বয়স অনুযায়ী ৮-১১ ঘণ্টা ঘুম ও বিশ্রাম নেয়ার চেষ্টা করবেন।

নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করুন

সঠিক সময় অনুযায়ী খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

লম্বা হওয়ার জন্য দিনে তিনবার খাওয়ার পরিবর্তে দিনে অন্তত পাঁচ বার খাওয়া দাওয়া করার অভ্যাস করবেন।

অসময়ে খাবার খাওয়া, এক বেলায় খাওয়া অন্য বেলায় না খাওয়া, এক বেলায় বেশি খাওয়া অন্য বেলায় কম খাওয়া,

এমন করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। নিয়ম না মেনে খাওয়া দাওয়া করা লম্বা হওয়ার জন্য বিরাট প্রতিবন্ধকতা সরূপ।

লম্বা হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে এমন কিছু করবেন না

লম্বা হবার জন্য শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করে এমন ভারি কোন জিনিস বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভারি জিনিস বহনের কারনে মেরুদণ্ডের উপর চাপ পড়ে ফলে লম্বা হবার পথে বাধা প্রাপ্ত হয়।

যেমনঃ পানি ভর্তি বালতি, ভারি স্কুল ব্যাগ। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য কিছু জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে। পচা, বাসি খাদ্য একেবারে খাওয়া যাবেনা।

এমনকি সকালে না খেয়ে কাজে যাওয়া ত্যাগ করতে হবে।

জাংক ফুড, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি, কার্বোনেটেড ড্রিংকস, ড্রাগ, এলকোহল, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি দেহে গ্রোথ হরমোন তৈরিতে বাঁধা প্রদান করে ও করটিসল উত্পাদিত হয়। ফলে লম্বা হবার পথে বাধা প্রাপ্ত হয়।

পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার

লম্বা হওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেই।

পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার দেহের হাড় ও কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

লম্বা হওয়ার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে সুষম খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক যুক্ত খাদ্য খেতে হবে।

আমাদের দেহে ভিটামিন ডি গ্রোথ হরমোন উৎপন্ন করে।

আমাদের দেহে ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠন এবং হাড় মজবুত করে।

দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে, দুধের পরিবর্তে ডাল ও বাদাম খেয়ে দুধের অভাব অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব।

৬০ গ্রাম ডালে প্রায় ২৫০ মিঃ লিঃ দুধের সমান প্রোটিন আছে। এছাড়া দই, সবুজ শাকসবজীতেও ক্যালসিয়াম পাবেন।

ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, এবং কার্বোহাইড্রেট কোষ গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আমাদের দেহে প্রোটিন পেশীর বৃদ্ধি ও হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খাবেন। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, ডাল, মাছ, দুধ এই ধরনের খাদ্য।

উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভাত এর বদলে রুটি খাওয়া ভাল।

এছাড়াও খাবার হজম ও সম্পূর্ণ দেহে পুষ্টি পৌঁছানোর বিষয়ের উপরও লম্বা হওয়া নির্ভরশীল। সুষম খাদ্য নিয়মিত খাবার চেষ্টা করবেন।

Niacin supplementation

Niacin হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক ভিটামিন নামক ভিটামিন B3।

সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি থেকে ৫০০গ্রাম নিয়াসিন সেবন করা মানুষের লম্বা হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানবদেহের বৃদ্ধির প্রায় ৮০% নির্ভর করে আপনার বংশের উপর।

বাকি ২০% প্রভাব থাকে আপনার পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও আপনার দৈনন্দিন কার্যকলাপের উপর।

সুতরাং এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে আপনিও লম্বা হতে পারবেন।

লম্বার হওয়ার জন্য কোন ঔষুধ নয়

লম্বা হওয়ার সহজ উপায় হিসাবে সবচেয়ে কার্যকর ও খুবই ব্যয়বহুল উপায়।লম্বা হওয়ার জন্য মানবদেহে ইঞ্জেকশন দিয়ে হরমোন বৃদ্ধি করা যায়। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি, ফলে একজন ডাক্তার কখনই এরকম কিছু প্রেস্ক্রাইব করবে না।

লম্বা হওয়ার জন্য বাজারে অনেক ঔষুধ পাওয়া যায়।

এগুলোও আপনাকে লম্বা হওয়ার নিশ্চয়তা দিলেও আসলে এগুলো ব্যবহারে লম্বা হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যহানি করবে।

লম্বা হওয়ার প্রাকৃতিক উপায়

সত্যি কথা বলতে লম্বা হতে কে না চায়? লম্বা হওয়ার জন্য কত পন্থাই না আমরা অবলম্বন করি।

ব্যায়ামাগারে গিয়ে বিভিন্ন প্রকার ব্যায়াম আর রিং ধরে ঝুলে থাকাসহ আরো কত কী!

কিন্তু চাইলেই আপনি যেকোনো সময় লম্বা হতে পারবেন না। লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের একটা সময়সীমা রয়েছে।

সাধারণত পুরুষের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত ও নারীর উচ্চতা সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

লম্বা হওয়ার ব্যাপারটি মূলত জেনেটিক। তবে আপনার লম্বা হওয়া কিন্তু আপনার প্রতিদিনের খাওয়ার অভ্যাসের উপরও নির্ভর করে।

পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব হলে শরীর বৃদ্ধি বা লম্বা হতে পারে না। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আপনাকে সহজেই লম্বা হতে সাহায্য করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবারের কথা।

বাঁধাকপি

 

বাঁধাকপিতে আছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার আছে। এই উপাদানগুলো শরীরের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।

ব্রোকলি

 

ব্রোকলি হলো ফুলকপি গোত্রের একটি সবজি। দেখতে ফুলকপির মতো এই সবজিটির রঙ সবুজ। ব্রোকলি খুবই পুষ্টিকর একটি সবজি। ব্রোকলিতে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। ব্রোকলি গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়ায় যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

মটরশুঁটি, ছোলা ও মসূর

 

এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি এবং আয়রন রয়েছে যেগুলো শরীরের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। ফলে লম্বা হতেও সাহায্য করে।

ঢেঁড়স

 

ঢেঁড়সে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, পানি ও ফাইবার। এই উপাদানগুলো গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

বাদাম

 

বাদাম বা কাজুবাদামও স্বাস্থ্য উপযোগী একটি খাবার। এতে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন ও ভিটামিন দেহে পুষ্টি যোগায় এবং লম্বা হতেও সহায়তা করে।

স্যুপ

স্যুপ স্বাস্থ্য উপযোগী একটি খাবার। এতে ক্যালরি রয়েছে যা ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে কোষ বৃদ্ধি করে লম্বা করে তোলে।

আপেল

 

আপেলে থাকা ফাইবার এবং পানি লম্বা হতে সাহায্য করে থাকে। তাই প্রতিদিন খাবারের আধা ঘন্টা আগে বা পরে একটি করে আপেল খেয়ে নিন।

পালং শাক

 

পালং শাক পৃথিবীর সবচাইতে বেশি পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে একটি। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল আছে। ফলে পালং শাকও গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ডিম

 

ডিম একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এতে প্রোটিন এবং ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এর ফলে শরীরের বৃদ্ধি হয়ে থাকে এবং লম্বা হয়।

ডার্ক চকোলেট

 

বাচ্চাদের এমনিতে চকোলেট খেতে দেয়া হয় না। কিন্তু এই ডার্ক চকোলেটও বাচ্চাদের লম্বা করতে সহায়তা করে। এতে থাকা ক্যালরি কোষ বদ্ধি করে ফলে বাচ্চারা লম্বা হয়ে ওঠে।

৮ টি সহজ ও স্বাভাবিক উপায়ে উচ্চতা বৃদ্ধি

 

১. এই বৃদ্ধি পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশন দ্বারা মানবদেহে হরমোন বৃদ্ধি করা হয়,

কিন্তু এটি সম্পূর্ণ বেআইনি যার কারণে একজন ডাক্তার কখনই আপনাকে এরকম কিছু প্রেস্ক্রাইব করবে না, এবং এটি খুবই ব্যয়বহুল যার কারণে এটি সাজেশন করা উচিত হবে না।

২. দুধ পান আপনাকে লম্বা হওয়ায় অনেক সাহায্য করবে কারণ ক্যালসিয়াম আপনার শরীররের হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায়। আরেকটা ব্যাপার যা আমাদের দেশে নেই সেটা হল আমেরিকায় তাদের গরুর মধ্যে বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় যার মাধ্যমে – হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি হয় এবং সেই প্রকিয়াজাতকরণ দুধ হয় সাধারণ দুধ এর বিকল্প।

৩. নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম (ওজন উদ্ধরণ) হরমোন (HGH) বৃদ্ধি করে। এটি বৃদ্ধি সংক্রান্ত হরমোনের মাত্রা আরও উন্নত করার জন্য বহুল পরিচিত এবং পদ্ধতি খুবই কার্যকর। আর অতিরিক্ত পেশী আপনাকে আরো সাহয্য করবে আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী হতে।

৪. তীব্র sprinting ব্যায়াম মানব বৃদ্ধির হরমোনে একটি বিস্ফোরণ ঘটায় এছাড়াও আপনার হরমোনকে আরও উন্নত করে। আসলে যে কোনো কঠিন শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই সেটা ২১ বছর বয়স হওয়ার পর।

৫. Niacin supplementation : Niacin একটি প্রাকৃতিক ভিটামিন নামক ভিটামিন B3। একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫০০গ্রাম নিয়াসিন নেওয়া মানুষের থেকে সাধারণ মানুষের বৃদ্ধি কম ঘটে।

৬.মানসিক চাপ কমান : স্ট্রেস বা মানসিক চাপ যা হচ্ছে আপনার লম্বা বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা। যাতে আপনার হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উত্পাদিত হয়। ভিটামিন C সম্পূরকসমূহ যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে।

৮. ঘুম : কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘমানো । এটি সবচেয়ে সহজ এবং অনেক কার্যকরী উপায়। সঠিক এবং সুন্দর ভাবে ঘোমানো আপনার দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলে। তবে আপনাকে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে।

ড্রাগ এবং অ্যালকোহল এই ২টিই আপনার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক বড় বাঁধা। ধূমপান যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি দেহের হরমোন গঠনও কমিয়ে ফেলে।

 

উচ্চতা বাড়াতে ৭টি ব্যায়াম নিয়মিত অভ্যাস করুন

 

পিএনএস ডেস্ক : চাইলেই কি আর লম্বা হওয়া যায়। তার জন্য করতে হয় কত সাধনা।

না খেয়ে বসে থাকতে হবে বা নিতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ। কি ভয় পেয়ে গেলেন শুরুতেই।

না এমন কিছুই করতে হবেনা আপনাকে। উচ্চতা বাড়াতে শুধু দরকার নিম্নোক্ত সাতটি ব্যায়াম অভ্যাস করার।

সঠিক নিয়মে পালন করতে পারলে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশেই।

তবে ঠিক ভাবে করতে না পারলে ফল হবে না কোনভাবেই।

এই ব্যায়ামগুল করার আগে হাল্কা একটু পরিশ্রম করে নিতে ভুলবেন না যেন।

এতে ব্যায়াম করতে গিয়ে হঠাত ব্যাথা পেয়ে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা কমে আসবে। এবার আসুন জেনে নেই এই ব্যায়ামগুলো সম্পর্কে-

প্রথম ব্যায়াম

দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়ান। এভাবে দাড়িয়ে নিজেকে দেয়ালের সমান্তরালে সোজা রাখবার চেষ্টা করুন।

সেই সাথে চেষ্টা করতে হবে, আপনার শরীরের পেছন দিকটির পায়ের গোড়ালি থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত যেন দেয়াল স্পর্শ করতে পারে।

এভাবে দেয়াল স্পর্শ করে সোজা হয়ে স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন। এভারে ৮ থেকে ১০ বার করুন ব্যায়ামটি

দ্বিতীয় ব্যায়াম

প্রথম ব্যায়াম শেষ হবার পরে এই পর্যায়ে রিং বা বারের সাহায্যে হাতের ভরে ঝুলে পড়ুন।

শরীররের ভার ছেড়ে দিন। পা দুটিকে দুলতে দিন পেন্ডুলামের মত। অনুভব করুন মধ্যাকর্ষণ শক্তি নিজের উপরে।

এভাবে ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত ঝুলে থেকে ছেড়ে দিন নিজেকে। আবার একই প্রক্রিয়ায় করুন এই ব্যায়াম। এক সেটে ৮ থেকে ১০ বার করতে পারেন

চতুর্থ ব্যায়াম

এই পর্যায়ে এসে শুধুমাত্র রিং বা বার ধরে ৩ মিনিট করে ঝুলে থাকুন। এভাবে ৬ বার করুন

পঞ্চম ব্যায়াম

এই পর্যায়ে এসে ব্যায়ামটি একটু কঠিন মনে হবে। এবার আপনাকে রিঙে বা বারে উল্টা হয়ে পায়ের হাঁটুর ভাজের সাহায্যে ঝুলতে হবে।

উল্টা হয়ে ঝুলে নিজের শরীর ছেড়ে দিন। হাত দুটিকে ঝুলতে দিন। এভাবে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন।

গোনা শেষ হলে নেমে পড়ুন। এই পর্যায়টি সম্পন্ন করতে কারো সাহায্য নিন।

ধীরে ধীরে করার চেষ্টা করুন। একবারে না পারলে জোর খাটাবেন না নিজের প্রতি।

ধীরে ধীরে শেখার চেষ্টা করুন। তারপরও আয়ত্তে আনতে না পারলে এই ব্যায়ামটির সব থেকে কাছাকাছি যতটুকু করতে পারবেন তাই করবেন।

তাতে কিছুটা হলেও সাহায্য হতে পারে।

ষষ্ঠ ব্যায়াম

আপনি যদি এই পর্যায়ে এসে পড়েন তবে আপনার জন্য সুখবর হল, সব থেকে কঠিন পর্যায় পার করে এসেছেন আপনি।

এরপরে আর রিং বা বারে ঝুলতে হবেনা আপনাকে।

এবার যা করতে হবে তা হল আপনি যেখানে দাড়িয়ে আছেন সেখান থেকে আপনার বাম দিকে দীর্ঘ একটি লাফ দিন প্রথমে।

সেই সাথে চেষ্টা করুন ডান পায়ের ভরে অবতরন করতে। অর্থাৎ লাফ দিয়ে নামার সময় ডান পা আগে মাটি স্পর্শ করবে।

লাফ দেয়ার সময় চেষ্টা করবেন যত দীর্ঘ সম্ভব তত দীর্ঘ লাফ দিতে।

সপ্তম ব্যায়াম

এই পর্যায়ে আমরা আমাদের ব্যায়াম রুটিনের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছি।

এই পর্যায়ে আপনি আপনার পেটের ভরে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। আপনার শরীর এবং পা থাকবে সোজা এবং টানটান।

হাত দুটোকে তুলে দিন আপনার পেছন দিকে এবং টানটান অবস্থায় রাখুন।

এবার এই অবস্থায় থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব বাঁকা করে তুলে ধতে চেষ্টা করুন।

আপনার মাথা এবং ঘাড় থাকবে সামনের দিকে সোজা অবস্থায়। এভাবে ৮ থেকে ১০ বার চেষ্টা করুন।

মানসিক চাপ দেহ লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিরাট বাঁধা

রাতে না ঘুমানো, যেকোনো মানসিক চাপ যার কারণে শরীরের গ্রোথ হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উৎপাদিত হয়। করটিসল কমাতে ভিটামিন C সম্পূরকসমূহ সাহায্য করে।

পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং এই এই রকম আরো আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট সাবস্ক্রাইব করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.