Tips and Tricks

ডিলিট হওয়া ফাইল ফিরে পাবার উপায় | ডিলিট ফাইল রিকোভার

হারিয়ে যাওয়া ফাইল খুব সহজেই ফিরিয়ে আনুন

 

আমরা প্রায়ই কারণে-অকারণে, বুঝে-না বুঝে আমাদের প্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে থাকতে পারি,

কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারি যে, ফাইলটা অনেক দরকারি ছিল, তখন আর সেই ফাইলটা ফেরত পাওয়ার কোন পথ থাকেনা।

যেভাবে Trash Digger ব্যবহার করে ডিলিট হওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনবেন

ডিলিট হওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনুন ES File explorer দিয়ে

এসব কারণেই প্রধানত আমরা ফাইল রিকভারী সফট; গুলো ব্যবহার করতে পারি।

সাধারণত ফাইল রিকভারী সফটওয়্যার দিয়ে অনেক আগের ডিলিট হওয়া ফাইলগুলোও ফেরত পাওয়া সম্ভব।

তবে সাধারনত যে স্থান থেকে ফাইল ডিলিট করা হয়েছে, সেই স্থানে যদি পরবর্তীতে অন্য কোন ফাইল write করা হয়ে যায়, তাহলে সাধারণত সেসব ফাইল ফেরত পাওয়া সম্ভব হয় না।

তাই সাধারণত কোন ফাইল ডিলিট করার পর যদি মনে হয় যে ফাইলটা দরকারি ছিল এবং ফেরত নিয়ে আসা দরকার, তাহলে ঐ স্থানে কোন প্রকার changes অর্থাৎ নতুন কোন ফাইল কাট, কপি, পেস্ট ইত্যাদি না করাই ভাল।

আবার এসব সফটওয়্যার দিয়ে আপনার ফাইলগুলো এমনভাবে ডিলিট করা সম্ভব যে পরবর্তীতে আর কেউ কখনো সেই ফাইল পুনরুদ্ধার করতে পারবে না।

আসুন আমরা ফাইল রিকভারী সফটওয়্যার Recuva দিয়ে কিভাবে কাজ করতে হয় তা দেখে নিই,

প্রথমেই এখান থেকে নামিয়ে নিতে হবে ।

এবার এটি ইন্শটল করুন ।অন্যান্য সফ্টওয়ারের মতই এটি ইন্শটল হবে ।

এবার রিকুভা সফ্টওয়ারটি চালু করুন । আপনার ডেস্কটপে রিকুভার আইকন দেখতে পাবেন এটিতে ডাবল ক্লিক করলেই রিকুভা সফ্টওয়ারটি চালু হবে ।

Next এ ক্লিক করুন ।
এবার আপনি যে ধরনের ফাইল খুজতে চান তা সিলেক্ট করুন ।

আপনি যদি সবধরনের ফাইল খুজতে চান তাহলে other select করে দিন ।

এবার Next এ ক্লিক করুন ।

এখন আপনি যে folder থেকে ফাইল ডিলিট করেছিলেন তা সিলেক্ট করে দিন ।

এর জন্য in a specific location এ ক্লিক করে browse করে আপনার folder টি সিলেক্ট করে দিন । Next এ ক্লিক করুন ।

Enable Deep Scan এ টিক চিহ্ন দিয়ে start এ ক্লিক করুন । নিচের মত দেখাবে এবং folder টিটে ডিলিট হওয়া ফাইল খুজবে ।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন । scan শেষ হলে নিচের মত recoverable file গুলু দেখাবে ।

এবার আপনি সবগুলু ফাইল সিলেক্ট করে Recover এ ক্লিক করুন ।

রিকভার হওয়ার লোকেশন জানতে চাইবে Desktop select করে ok তে ক্লিক করুন । ব্যস আপনার ডিলিট হওয়া ফাইলগুলু পেয়ে গেলেন ।

 

প্রয়োজনিয় ফাইল ডিলিট হলে যা করবেন

 

আমরা কম বেশী অনেকে ভুলবশত আমাদের প্রয়োজনিয় ফাইল এমনকি হার্ড-ডিস্কের পার্টিশন ডিলিট করে ফেলি যা পরবর্তীতে আমদেরকে অনেক কষ্ট করে ঐ ফাইল এবং হার্ড-ডিস্কের পার্টিশনগুলো আনতে হয়।

আজ আমি আপনাদেরকে একটি সফটওয়্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যা আপনার জন্য নিচে উল্লেখ করা কাজ করতে সক্ষম।

১- ফাইল পুনঃউদ্ধার করতে সক্ষম

২- মুছে যাওয়া হার্ড-ডিস্ক পার্টিশন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম

৩- ISO ইমেজকে সিডিতে রাইট করতে সক্ষম।

 

ডাটা রিকভারি সফটওয়্যার কোনটা ভাল

 

গুগলে data recovery লিখে সার্চ করলে অনেক লজিক্যাল ডাটা রিকভারি সফটওয়্যার এর লিংক পাবেন,

আপনারা তখন কনফিউজড হয়ে যান কোন সফটওয়্যারটা ভাল।

যদি বুঝতে পারেন ডাটা রিকভারি সফটওয়্যারগুলো কিভাবে কাজ করে তাহলে সকল কনফিউশন দুর হয়ে যাবে।

আরো সহজভাবে বলি, মাইক্রোসফট অফিস ভাল নাকি ওপেন অফিস ভাল?

দুটোই একই কাজের উদ্দেশ্য ডেভেলপ করা, ডিজাইনে কিছুটা পার্থক্য।

আবার ফটোশপ ভাল নাকি গিম্প ভাল – একই কথা, ডিজাইনে ও ফিচারে পার্থক্য।

অর্থ্যাৎ, আপনি অফিস দিয়ে গ্রাফিক্সের কাজ করতে পারবেন না আবার ফটোসপ/গিম্প দিয়ে অফিসের কাজ করতে পারবেন না।

এক কথায় বলতে গেলে সব সফটওয়্যারই ভাল। ইন্টারফেস, ফিচার আর উদ্দেশ্য ভিন্নতা। শুধু এতটুকুতেই ভিন্নতা।

আবার দেখা উচিত আপনি কোন ধরনের লসের জন্য এইটা ব্যবহার করছেন, কেননা, লজিক্যাল লস বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

লজিক্যাল রিকভারিকে আমি দুইভাগে ভাগ করছি, সিম্পল লজিক্যাল এবং এডভান্সড লজিক্যাল।

 

সিম্পল লজিক্যাল রিকভারি

 

১. ডিলেট

ক) শিফট + ডিলেট
খ) ডিলেট এর পর আবার রিসাইকেল বিন থেকে খালি করে দেওয়া।

রিকুভা – Recuva ব্যবহার করুন, এটি একটি ফ্রি ইউটিলিটি। – এটি খুবই সহজ ব্যবহারযোগ্য ইউটিলিটি যা End User এর জন্যই ডেভেলপ করা।

২. ফরম্যাট (একধরনের ফাইল সিষ্টেম কে অন্য ধরনের ফাইল সিষ্টেমে ফরম্যাট করা, যেমন- NTFS কে FAT32 অথবা বিভিন্নটাকে বিভিন্নভাবে, অথবা same ফাইল সিষ্টেম এ ফরম্যাট করা।

গেটডাটব্যাক/রিকভার মাই ফাইলস্ (GetDataBack /RecoverMyFiles )‌ বা আপনার পছন্দের যে কোন একটা যার মধ্যে ফরম্যাট রিকভারি ফিচারটি রয়েছে।

৩. পার্টিশন ব্রেক
ক) পার্টিশন ভুল বশত ডিলেট করা দেওয়া
খ) পার্টশন সিষ্টেমের লজিক্যাল প্রবলেম এর কোন কারণে ভেঙে যাওয়া।

টেষ্টডিস্ক – TestDisk , এটিও একটি ফ্রি ইউটিলিটি এবং এর ব্যবহারও খুব সহজ।

 

ডাটা লস হওয়ার পর কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে

 

১. যে ড্রাইভের ডাটা লস হয়েছে, সেটাতে আর কোন ডাটা কপি/রাইট করবেন না।

২. ড্রাইভটিকে সেকেন্ডারি হিসেবে কানেক্ট করুন।

৩. খেয়াল রাখুন আপনি যেই পিসিতে কানেক্ট করছেন, সেই পিসির হার্ডড্রাইভে যেন কোন ভাইরাস/ম্যলওয়্যার না থাকে, কেননা এইগুলো আপনার ডাটা লস হওয়া ড্রাইভে রাইট হতে পারে, যার কারণে রাইটকৃত অংশের ডাটা পার্মানেন্টলি লস হবে।

৪. প্রবলেম যদি বুঝতে না পারেন, অভিজ্ঞ কারো হেল্প নিন, কেননা, ডাটা রিকভারি One Time Assignment, কোন ভুল হলে, তা ওয়ার্ল্ড এর আর কোন ডাটা রিকভারি স্পেশালিষ্ট রিকবার করতে পারবেনা।

৫. বুঝার আগ পর্যন্ত হার্ডড্রাইভ কিংবা আপনার ষ্টোরেজ ডিভাইসটি ডিসকানেক্ট করে রাখুন।

৬. স্ক্যানডিস্ক/ডিফ্রাগমেন্ট জাতীয় কোন ধরনের ইউটিলিটি চালাবেন না, এমনকি যদি অপারেটিং সিষ্টেম চালু করে ফেলে, ইমিডিয়েটলি সেটা অফ করেন। এমনকি থার্ডপার্টি জাতীয় (যেমন – নর্টন ডিস্ক ইউটিলিটি/ফার্ষ্ট ডিস্ক এইড টুলকিট ইত্যাদি)

৭. যে ড্রাইভের ডাটা লস হয়েছে, সেটাতে কোন ধরনের নতুন সফটওয়্যার/এমনকি ডাটা রিকভারি সফটওয়্যারটি কপি/ইন্ষটল করবেন না।

লজিকাল লসের ক্ষেত্রে কখন ডাটা রিকভারি হবেনা

 

জিরোফিল/লো লেভেল ফরম্যাট এবং ডাটা ওভাররাইট হলে ডাটা রিকভারি হবেনা।

ফিজিক্যালি লসের ক্ষেত্রে কখন ডাটা রিকভারি হবেনা

 

হার্ডড্রাইভের প্ল্যাটারে যতক্ষণ পর্যন্ত না স্ক্র্যাচ পড়বে। ক্লিক ক্লিক কিংবা অস্বাভাবিক শব্দের সৃষ্টি হলে এসব কারণেই ড্রাইভটিকে ডিসকানেক্ট করে রাখতে বলা হয়,

কেননা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক শব্দের কারণ রিড/রাইট হেড ভেঙে যাওয়া, আর সেটা যদি ভেঙে যাওয়ার কারণে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাহলে মটর স্পিনের সাথে সাথে প্ল্যাটার এ ঘর্ষনের সৃষ্টি হতে পারে ভাঙা হেডটির কারণে আর এতে স্ক্র্যাচ পরাটাই স্বাভাবিক প্ল্যাটার এ।

 

কেন পার্টিশন/ড্রাইভ ডিলিট হয়

 

হার্ডডিস্কে Format, Partition Create, Partition Resize, Partition Restore ইত্যাদি হার্ডডিস্ক সম্পর্কিত অপারেশন চলাবস্থায় যদি আপনার পিসি বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ হওয়ার আগেই অপারেশন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আপনার ড্রাইভটি কিংবা সবকটি ড্রাইভ ডিলিট হয়ে যেতে পারে।

এতে পুরো হার্ডডিস্ক Raw হয়ে যেতে পারে। Partition Restore বলতে যারা Acronics True Image, Norton Ghost বা এরকম সফটওয়ার দিয়ে BackupPartition কে Restore করেন কিংবা ৫ মিনিটে উইন্ডোজের কাজ করেন তাদের কথাই বলছি। এ কাজগুলো সতর্কতার সাথে করা উচিত।

 

কিভাবে বুঝবেন ড্রাইভ ডিলিট হয়ে গেছে

 

আপনার অপারেটিং সিস্টেম বুট হচ্ছে না।

বুট করতে গেলে Disk Failure, No disk, HDD not detected ইত্যাদি মেসেজ দিচ্ছে। উপায় না দেখে নতুন অপারেটিং সিস্টেম দিলেন।

কিন্তু ড্রাইভ লিস্টে দেখতে পেলেন আপনার আগের সবকটি ড্রাইভ এক হয়ে গেছে।

মানে কোন ড্রাইভ নেই। কিংবা বুটেবল সিডি চালিয়ে দেখতে পাচ্ছেন আপনার হার্ডডিস্কটি নেই।

তাহলে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার ড্রাইভগুলো ডিলিট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আপনি নতুনভাবে Partition Create, Partition Resize, Partition Restore,Format ইত্যাদি কাজ করতে যাবেন না যদি হার্ডডিস্কের সব ডাটা উদ্ধার করার চিন্তা থাকে।

এমন কি নতুন অপারেটিং সিস্টেম দেয়া থেকেও বিরত থাকুন। ড্রাইভগুলো Recover করার কাজটি চালিয়ে যান।

বিঃ দ্রঃ অপারেটিং সিস্টেম করাপ্টেড হলেও পিসি বুট না হতে পারে। সেটা ভিন্ন সমস্যা।

তখন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করতে গেলে সব ড্রাইভ শো করবে এবং যে ড্রাইভে ইচ্ছা অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা যাবে।

ঐ সমস্যার জন্য আমাদের এ আলোচনা নয়। ঐ সমস্যায় নতুন অপারেটিং সিস্টেম দিলে পিসি ঠিক হয়ে যায়। তাই ভাল করে দেখুন আপনার ড্রাইভগুলোর কোন অবস্থা।

 

কোন সফটওয়ার আপনাকে সাহায্য করতে পারে

 

এ কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারেন Partition Wizard Home Edition নামের ফ্রী সফটওয়ারটি।

এটি’র বর্তমান নাম MiniTool Partition Wizard। এর কয়েকটি ভার্সন আছে। আমরা ফ্রি অর্থাৎ Home Edition দিয়েই কাজ চালিয়ে দেব।

এটি দিয়ে আমি প্রায় ১৫টি পিসি’তে অপারেশন চালিয়ে সফল হয়েছি।

সফটওয়ারটির Setup ফাইল এবং বুটেবল ISO ফাইল পাওয়া যায়।

ISO ফাইলটি সিডিতে রাইট করলেই সিডিটি বুটেবল হয়ে যাবে।

তাছাড়া সফটওয়ারটি হিরেনস বুট সিডিতে ভার্সন ১১ থেকে যুক্ত করা হয়েছে।

যাদের হিরেনস বুট সিডি’র ১১ ভার্সন থেকে পরের যেকোন ভার্সন আছে তারা এটি ওখান থেকেই ব্যবহার করতে পারেন।

আর সেটাপ ফাইলটি নামাতে আমি কাউকে উৎসাহিত করবো না।

কারণ আপনার অপারেটিং সিস্টেম যদি কাজ না করে তাহলে সেটাপ ফাইলটি কাজে লাগবে না।

ডাউনলোডঃ ডাউনলোডের জন্য MiniTool Partition Wizard এর ডানলোড পেজে গিয়ে একদম নিচের দিকে Free Download Bootable CD Now!

লেখার নিচে বুটেবল সিডি’র ফাইলটি আছে। এটি বুটেবল সিডি’র জন্য। ডানপাশে Link লেখার নিচে ডাউনলোড লিংক আছে।
partitionwizard dot com/download.html

সুবিধাঃ সফটওয়ারটি’র অনেক সুবিধা আছে। যেমনঃ

১। এটি ফ্রি।
২। পার্টিশান সংক্রান্ত কাজের জন্য অন্য কোন সফটওয়ার লাগবে না যদি এটি আপনার সংগ্রহে থাকে।

৩। এটি উইন্ডোজের সব ভার্সনে কাজ করে। তাছাড়া যখন অপারেটিং সিস্টেম থাকবে না থকন নিজেই বুটেবল সিডির মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্য ছাড়া সব কাজ করতে সক্ষম।

৪। পার্টিশান যখন ডিলিট হয়ে যায় তখন অন্য সফটওয়ারের মাধ্যমে ডাটা রিকভার করতে গেলে সমপরিমাণ আরেকটি হার্ডডিস্ক দরকার পড়ে যেখানে ডাটাগুলো ট্রান্সফার করবো। কিন্তু এটি’র মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে আমি কখনো অন্য হার্ডডিস্ক ব্যবহার করি নি।

আরো অনেক সুবিধা আছে যা আপনারা ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন। আমি মাত্র একটি সুবিধা নিয়ে আজকে টিউটোরিয়ালটি তৈরি করেছি।

 

Show More

Imran

Prayer is better than sleep. আপনার নামাজের কথা মনে আছে তো?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close