উইন্ডোজ এবং লিনাক্স ডুয়াল বুটিং এর ৭ ঝুকি এবং সমাধান

যত দিন যাচ্ছে লিনাক্সের প্রতি মানুষের আস্থা তত বারছে এবং বর্তমানে লিনাক্স ব্যবহার করেন এমন অনেক মানুষ আছে।

এমনকি একসময় যারা লিনাক্স নাম শুনলেও উরিয়ে দিতেন তারাও আজ লিনাক্স ব্যবহার করছেন, আর করবেন নাই বা কেন যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহিত অপারেটিং সিস্টেম অ্যাান্ড্রয়েড খোদ নিজেই এক প্রকার লিনাক্স।

লিনাক্সের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এমন কিছু কাজ আছে যা লিনাক্স দিয়ে করা যায়না বা করা গেলেও করে শান্তি পাওয়া যায়না।

যে চারটি কাজ করার জন্য লিনাক্স এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার যথেষ্ট নয়

সেকারনেই মানুষ পুরোপুরি লিনাক্সে ভরষা রাখতে পারেন না, তাই বেশিরভাগ মানুষই ডুয়াল বুট করে লিনাক্স এবং প্রান প্রিয় উইন্ডোজ একসাথে ব্যবহার করে থাকেন। ডুয়াল বুট অনেক উপকারি দিক থাকলেও ডুয়াল বুট করায় বেশ কিছু ঝুকি থাকে, সে ঝুকি সমুহ নিয়েই মুলত আজকের লিখা।

ডুয়াল বুটিং এর ৭ ঝুকি এবং সমাধান

১। ওভাররাইট ডেটা / অপারেটিং সিস্টেম

ডুয়াল বুটিংএ সব চেয়ে বেশি ঝুকি থাকে ডেটা ওভাররাইটিং এর।

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করার সময় পারটিশন সিলেকশনে ভুল করে ফেলেন তাহলে আপনি ৯০ শতাংশ এই ঝুকির মদ্ধে পরে যাবেন, যার ফলে নির্দিষ্ট কোন পার্টিশনের ডেটা হারিয়ে যেতে পারে।

আর যদি লিনাক্স ইন্সটলেশন করতে গিয়ে আগের অপারেটিং সিস্টেম যে ড্রাইভে আছে সে ড্রাইভ সিলেক্ট করেন তাহলে আপনি আগের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটি হারিয়ে ফেলবেন।

কারন লিনাক্স সেটআপ করার সময় সে ড্রাইভ সিলেক্ট করবেন তা পুরপুরি ফরম্যাট হয়ে যাবে।

এমনকি মাঝে মাঝে আগের অপারেটিং সিস্টেম ড্রাইভ সিলেক্ট না করলেও ডেটা লস না হলেও আগের অপারেটিং সিস্টেমটি আর বুট করেনা। এটা ঠিক আপনি চাইলে পরে ডেটা রিকভারি টুলস দিয়ে অনেক ডেটা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, কিন্তু সম্পুর্ন ডেটা এবং আগের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম কখনো রিকভারি করতে পারবেন না।

২। কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া

ডুয়াল বুট নিসন্দেহে একটি ভাল দিক যা আপনার পিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে কারন আপনি আপনার চাহিদা উনুযায়ী যখন যে অপারেটিং সিস্টেম প্রয়জন ব্যবহার করতে পারবেন (পিসিতে অপারেটিং সিস্টেমগুলো ইন্সটল থাকতে হবে)। কিন্তু মাঝে মাঝে লিনাক্স ইন্সটল এ কিছু ভুলের কারনে উল্টটা হতে পারে। আবার লিনাক্স ইন্সটল ঠিক থাকলেও গ্রাব বুট লোডারের সমস্যার কারনেও আপনার পিসির কোন অপারেটিং সিস্টেমই ঠিক মত কাজ না করতে পারে।

৩। পারটিশন লক

ডুয়াল বুট এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পারটিশন লক বা পারটিশন হারিয়ে যাওয়া। পারটিশন লক হয়ে গেলে আগের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে সব পারটিশন এবং ডেটা ঠিক থাকলেও পরের লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে সিস্টেম ড্রাইভ ছাড়া অন্য কোন ড্রাইভ থাকেনা যার ফলে লিনাক্স সর্বদা লো-ডিস্ক ওয়ার্নিং দেয় এবং নতুন করে কোন ফাইল রাখা যায়না। এটি ডুয়াল বুটিংএর সামান্য কোন ভুলের কারনে এই সমস্যা হতে পারে আবার কোন ভুল না থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সৌভাগ্যবসত এই সমস্যাটি সমাধান করা যায় নতুন করে লিনাক্স ইন্সটল না করেই।

৪। উইন্ডোজ আপডেট

উইন্ডোজের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হল উইন্ডোজ আপডেট। এটি আপনার পিসিকে সর্বদা আপডেট ভার্সনে রাখে যা পিসির সিকিউরিটিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়জনীয়। কিন্তু মাঝে মাঝে উইন্ডোজ আপডেট ডুয়াল বুটে সমস্যা করতে পারে। উইন্ডোজ আপডেট মাস্টার বুট রেকর্ড রিরাইট করতে পারে, যা মুলত ডুয়াল বুটে সমস্যা করে। এই সমস্যাটি ঠেকেনোর জন্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে ডিফল্ট রাখুন।

৫। ভাইরাস জনিত সমস্যা

লিনাক্স মুলত ভাইরাস প্রোটেকশনের জন্য অনেক জনপ্রিয়। সকল লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমই অনেক শক্তিশালি হয়ে থাকে। সাধারনত হ্যাকাররা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম টার্গেট করে হ্যাকিং করার জন্য। কিন্তু সমস্যা হল অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হ্যাকাররা বিভিন্য ম্যালওয়্যারের মাদ্ধমে অনেক ওয়েবসাইট ডাউন করে দেয় যার প্রায় সবই লিনাক্সে চলে।

৬। হার্ডওয়্যার সমস্যা

অনেক আগে থেকেই ডুয়াল বুটের কারনে হার্ডওয়্যারে সমস্যা দেখা যায় তবে তা খুবই সামান্য এবং সব পিসিতে হয়না কিছু কিছু পিসিতে হতে পারে। এই সমস্যাটি মুলত নেটওয়ার্ক কার্ডে হয়ে থাকে। এখন আপনি ভাবতে পারেন অপারেটিং সিস্টেম তো স্বাধিন তাহলে হার্ডওয়্যার সমস্যা হয় কিভাবে? হ্যা অপারেটিং সিস্টেম স্বাধিন কিন্তু নেটওয়্যার্ক কার্ড একটি হার্ডওয়্যার যা বায়োস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং উইন্ডোজ বায়োস সেটিংসের সাথে মিল রেখেই ইন্সটল হয় সুতরাং নেটওয়ার্ক কার্ডটি উইন্ডোজের সাথে মিল রেখে কাজ করে। কিন্তু আপনি যখন লিনাক্স রান করান তখন নেটওয়ার্ক কার্ডটি লিনাক্সের সাথে মিল রেখে কাজ করতে পারেনা যার ফলে সমস্যা হয়। এই সমস্যা থেকে বাচার জন্য দুই অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইস ড্রাইভার সমুহ সর্বদা আপডেট রাখতে হবে।

৭। ডুয়াল বুটের ডিস্ক সোয়াপে প্রভাব

ডুয়াল বুটের কারনে হার্ডওয়্যারে খুব একটা প্রভাব না পরলেও একটি সমস্যা একটু সতর্ক থাকা দরকার। সমস্যাটি হল ডিস্ক সোয়াপিং এ সমস্যা। উইন্ডোজ এবং লিনাক্স উভয়েই কম্পিউটার চলাকালিন সময়ে হার্ডডিস্ক থেকে কিছু যায়গা খন্ডে খন্ডে ভাগ করে সেখানেও কিছু কাজ করে যার ফলে কম্পিউটার ভাব পারফর্মেন্স দেয়। কিন্তু ডুয়াল বুট করলে হার্ড ডিস্কের সে যায়গাটুকু দুটি ভাগে ভাগ হয় যা দুটি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে এবং কম্পিউটারের পারফর্মেন্স একটু কমে যায়।

ডুয়াল বুটিংএর সমস্যার সমাধানে করনীয়

সব কিছুরই ভাল এবং খারাপ দিক থাকবে আবার এর পাশা পাশি কিছু লিমিটেশনও থাকবে তাই সবার উচিৎ হবে সব কিছু ভাল করে জেনে বুঝে কোন কাজ করা। আর লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে, আগে লিনাক্স ডাউনলোড এর দিকে নজর দিতে হবে অর্থাৎ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে লিনক্স ডাউনলোড করার চেস্টা করতে হবে। এরপর যদি লিনাক্স ইন্সটলে সমস্যা হয় তাহলে ইউটিউব থেকে লিনাক্স টিউটোরিয়াল দেখে লিনাক্স ইন্সটল দেয়া যেতে পারে। ইন্সটল দেয়ার পর কিছু না বুঝলে সেটিও লিনাক্স টিউটোরিয়াল থেকে শিখে নিতে পারেন নয়ত বাজার থেকে লিনাক্স এর বই পাওয়া যায় সেটি কিনতে পারেন নয়ত লিনাক্স বাংলা ইবুক পরতে পারেন। লিনাক্স সেটাপের সময় সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ লিনাক্স পারটিশন করার সময়। আর সব শেষে চেস্টা করবেন সর্বদা লিনাক্স ফোরামে যুক্ত থাকতে তাহলেই একসময় লিনাক্স এক্সপার্ট হয়ে জাবেন।

Leave a Reply